বৃহস্পতিবার

,

১১ই জুন, ২০২৬

ফের দাবানলে পুড়ছে লস অ্যাঞ্জেলেস, সরানো হলো হাজার হাজার বাসিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে আবারও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যা এলাকাবাসীর জন্য ব্যাপক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের প্রভাবে লস অ্যাঞ্জেলেস ও ভেনচুরা কাউন্টির প্রায় ৫ হাজার একর জমি পুড়ে গেছে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে ৪০০ জনেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় হেলিকপ্টার ও অন্যান্য বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তর-পশ্চিমে ‘ক্যানিয়ন ফায়ার’ নামে আগুনটি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত লেক পিরুর কাছে শুরু হয়।

গত কয়েকদিন ধরে এই দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর আগ্রাসনে পাহাড়ি এলাকার দুটি কাউন্টিতে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও আগুন নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তা জন স্মিথ জানান, “এই দাবানল বেশ তীব্র এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা।”

দাবানলের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনো সঠিক কারণ জানা যায়নি, তবে শুকনো আবহাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা এবং জোয়ারি বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অগ্নিনির্বাপক বাহিনী বলেছে, তাদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাজ চলছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখনও চ্যালেঞ্জিং। ৭০০টিরও বেশি স্থাপনা আগুনের কবলে পড়েছে। দ্রুত গতিতে ছড়ানো আগুনের কারণে বহু বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের মুখে রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২,৭০০ বাসিন্দাকে বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও ১৪,০০০ বাসিন্দাকে সতর্কতা জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস জানিয়েছেন, “আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে।”

এই দাবানলের কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিবেশের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। দাবানল থেকে নির্গত ধোঁয়া ও কেমিক্যাল জনস্বাস্থ্য হুমকির পাশাপাশি বায়ুদূষণের মাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের দাবানল আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পরিবেশ ও মানুষের জীবনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এই দাবানল পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন সরকারি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও চলছে, যাতে প্রভাবিত মানুষদের দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো যায়।

লস অ্যাঞ্জেলেসের স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং দ্রুত এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।

এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বিশেষজ্ঞরা সবাইকে অনুরোধ করছেন।