সোমবার

,

১৬ই মার্চ, ২০২৬

পুতিন মুখে ভালো বলেন, রাতে বোমা মারেন: ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “পুতিন দিনে ভালো কথা বলেন, কিন্তু রাতে ইউক্রেনের ওপর বোমা ফেলেন।” একইসঙ্গে ইউক্রেনকে শক্তিশালী করতে আমেরিকার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্যাট্রিয়ট’ সরবরাহের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “শক্তির মাধ্যমেই শান্তি অর্জন করতে হবে।”

স্থানীয় সময় রবিবার (১৩ জুলাই) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তার বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন কৌশল ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বার্তা স্পষ্ট।

ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনকে অবিলম্বে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হবে। তবে এই সহযোগিতার অর্থ বহন করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তিনি বলেন, “এই ব্যয় আমেরিকার নয়, ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত এটি বহন করা। কারণ তাদের নিরাপত্তাও এতে জড়িত।”

এই সিদ্ধান্তকে ইউক্রেনের জন্য একটি বড় কৌশলগত সহায়তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইউক্রেন আগেই দাবি করেছিল, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে তাদের আরও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি দরকার।

ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘দ্বিমুখী’ ও ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “পুতিন দিনে আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কথা বলেন, আর রাতে ইউক্রেনের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এটা কোনো রাজনীতিকের আচরণ হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি শান্তির পক্ষে। কিন্তু পুতিনের এই দ্বিচারিতামূলক আচরণ বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।”

রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিতও দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “যদি পুতিন যুদ্ধ থামাতে না চান, তবে আমাদের কাছে বিকল্প আছে— তা হবে কৌশলগত অর্থনৈতিক চাপ।”

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইউক্রেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমেরিকার এই সহায়তা আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় করবে।”

অন্যদিকে মস্কো জানিয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ‘যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত’ করবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য ও ঘোষণা থেকে পরিষ্কার, ইউক্রেন ইস্যুতে তার প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত। তার মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে শক্ত অবস্থান ও সংঘাত নিরসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। তবে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সমর্থন কেমন হবে, তা সময়ই বলবে।