বুধবার

,

১৩ই মে, ২০২৬

আত্মরক্ষায় আইসকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিলেন ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টদেরকে আত্মরক্ষার জন্য “যেকোনো প্রয়োজনীয় উপায়” অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় সাম্প্রতিক একটি আইস অভিযান এবং টেক্সাসে বন্দুক হামলার ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নির্দেশনার ফলে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে গেছে।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন স্থানে আইস অভিযান চলাকালে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয় এজেন্টদের। এক পর্যায়ে গ্লাসহাউস ফার্মস নামের একটি কৃষি খামারে অভিযানের সময় একজন কর্মী ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। এই ঘটনার পর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে আইসবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে ১২ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমাদের সাহসী আইস এজেন্টদের যদি আক্রমণ করা হয়, তারা যেন আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহার করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যারা আইন ভাঙছে এবং এজেন্টদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, তাদের কোনো রেহাই দেওয়া হবে না।”

এই নির্দেশনার ফলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনে থাকা আইস সংস্থা এখন যেকোনো হামলা প্রতিরোধে আগের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা পাবে। একইসঙ্গে সংস্থাটির জন্য অতিরিক্ত বাজেট ও জনবল বৃদ্ধির বিষয়েও প্রশাসন আলোচনা করছে।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের নির্দেশনার মাধ্যমে আমেরিকায় আইনের শাসন দুর্বল হবে এবং সংখ্যালঘু ও অভিবাসী সম্প্রদায় আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।”

ফেডারেল আদালত ইতিমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে “অনিয়ন্ত্রিত ও জাতিগত ভিত্তিতে” আইস কর্তৃক অভিযান বন্ধে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নতুন নীতির ফলে আমেরিকায় অভিবাসন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই পদক্ষেপকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও আখ্যায়িত করছেন।