আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মেক্সিকো থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
শনিবার তিনি এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উভয়পক্ষের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হলে এই সিদ্ধান্ত আগামী আগস্ট মাস থেকেই কার্যকর হবে। এসময় ট্রাম্প দাবি করেন, এই শুল্ক আরোপের মাধ্যমে আমেরিকার শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে।
আমেরিকার প্রধান মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার মেক্সিকোর সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার পরও পক্ষগুলো কোনো ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছতে পারেনি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মেক্সিকোর পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লাইয়েন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত ডব্লিউটিও নিয়মবিরোধী এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, ইইউ পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোসহ ইউরোপীয় ব্যবসায়িক সংস্থাগুলো শঙ্কা প্রকাশ করেছে। ইউরোপের ট্রেড কাউন্সিল থেকে বলা হয়েছে, “এই শুল্ক আরোপের ফলে হাজার হাজার চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে এবং দুই অঞ্চলের মধ্যে সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হবে।”
মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী জানান, বিষয়টি ডব্লিউটিওতে উপস্থাপন করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তিনি বলেন, “মেক্সিকো কখনোই একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা বাড়াবে। ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে ইতোমধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং আমেরিকার ভোক্তা বাজারে দ্রব্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি, ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপ শুধু আন্তর্জাতিক সম্পর্কেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অভিঘাত ফেলতে পারে।
এদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা একে “আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত” হিসেবে অভিহিত করেছেন।




