ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত আমেরিকার টেক্সাস রাজ্য পরিদর্শনে গেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন পর্যন্ত এ দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২০ জন, নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৬১ জন।
প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় দক্ষিণ টেক্সাসের কার কাউন্টি ও কারভিল শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই এই এলাকাগুলোর বাসিন্দা। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে সান অ্যান্টোনিওর একটি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান এবং সেখান থেকে কারভিল শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত কর্মীদের ধন্যবাদ জানাবেন।
বন্যার তাণ্ডবে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, যানবাহন ভেসে গেছে এবং নদীর তীরে থাকা গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ‘ক্যাম্প মিস্টিক’ থেকে অন্তত ২৭ শিশু ও তাদের এক পরামর্শক প্রাণ হারিয়েছেন। ক্যাম্পটির পরিচালকও নিহত হয়েছেন।
এক সপ্তাহ আগে টানা ভারি বর্ষণে গুয়াদালুপে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ওই অঞ্চলের বসবাসকারী ২৫ হাজার মানুষ বিশাল বিপদের মুখে পড়ে।
তবে এই বিপর্যয়ের মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কবার্তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
বাজেট কাটছাঁটের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। তারা বলছেন, আবহাওয়া বিভাগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থায় বাজেট কমানোর ফলে সতর্কতা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবেলায় আরও কার্যকর সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা দরকার।” যদিও তিনি এও স্বীকার করেন, “স্থানীয় কর্মকর্তারাও হঠাৎ করে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন এবং প্রস্তুত ছিলেন না।”
সেনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট চাক শুমার এ ঘটনায় সরকারি ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সতর্কতা ব্যবস্থায় ঘাটতির বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর দাবি করেছে, বন্যার আগের দিন তারা একাধিক সতর্কতা জারি করেছিল এবং নিয়মিত ব্রিফিং দিয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সংস্থাটিতে যথেষ্ট জনবল ছিল এবং তারা “দ্রুত ও কার্যকর” সাড়া দিয়েছে।




