আমেরিকায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নতুন জরিমানা কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। এখন থেকে অবৈধ অভিবাসী আটক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাঁচ হাজার ইউএস ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ছয় লাখ টাকা) জরিমানা আদায় করা হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর অধীনে এই নীতি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
৫ ডিসেম্বর (স্থানীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত) ইউএস বর্ডার পেট্রোলের প্রধান মাইকেল ব্যাংকস জানিয়েছেন, এই জরিমানা সব অবৈধ অভিবাসীর জন্য প্রযোজ্য হবে। তারা কোথা দিয়ে প্রবেশ করেছেন, কতদিন ধরে আমেরিকায় অবস্থান করছেন বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলমান কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। আদালতের রায়ের অপেক্ষা ছাড়াই আটক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা আরোপ করা হবে।
নতুন নীতির ভিত্তি আমেরিকা কোডের ৮ ইউএসসি ১৮১৫ ধারা, যেখানে বলা হয়েছে, ‘ইন্সপেকশন ছাড়াই’ প্রবেশ করলে আটক হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক ফি দিতে হবে। এছাড়া পরিস্থিতি অনুযায়ী ৮ ইউএসসি ২৩৩৯ ও ১৩২৪ ধারার অতিরিক্ত শাস্তিও প্রযোজ্য হতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এক হাজার ডলারের আলাদা চার্জ কার্যকর করেছিল। নতুন পাঁচ হাজার ডলারের জরিমানা সেই কাঠামোর সর্বশেষ ধাপ হিসেবে যুক্ত হলো।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী সবাইকে জরিমানা দিতে হবে যদি তারা অনুমতি ছাড়া আমেরিকায় প্রবেশের পর আটক হন। অভিবাসন আইনে যাদের ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তারাও এই জরিমানার আওতায় পড়বেন। এ নীতি শুধু সীমান্তে নয়, পুরো আমেরিকাজুড়েই কার্যকর হবে।
ডিএইচএস জানিয়েছে, জরিমানা পরিশোধ না করলে তা আমেরিকা সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ঋণ হিসেবে জমা হবে। পরবর্তীতে এই বকেয়া ঋণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধভাবে আমেরিকায় প্রবেশ বা অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত এটি রেকর্ডে বহাল থাকবে।




