বুধবার

,

১০ই ডিসেম্বর, ২০২৫

অবশেষে অবসান হলো আমেরিকার দীর্ঘতম শাটডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার ইতিহাসে দীর্ঘতম সরকারি অচলাবস্থার (শাটডাউন) অবসান ঘটাতে একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এই স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে টানা ৪৩ দিনের শাটডাউন শেষ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এর আগে আমেরিকার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু, কর্মবিরতিতে থাকা কয়েক লাখ ফেডারেল কর্মচারীর বেতন প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে জরুরি ব্যয় বিল অনুমোদন করে। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই কক্ষে বিলটি ২২২–২০৯ ভোটে পাস হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনেই রিপাবলিকানরা বিলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকলেও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা তীব্র বিরোধিতা করেন। দীর্ঘ অচলাবস্থার সময়ে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান এবং ফেডারেল স্বাস্থ্যবীমা ভর্তুকি বৃদ্ধিতে ব্যর্থতা—এ সবই ক্ষোভের কারণ হয়ে ওঠে।

বিলে স্বাক্ষরের ফলে ৪৩ দিনের কর্মবিরতিতে থাকা ফেডারেল কর্মীরা শুক্রবার থেকেই কাজে ফিরতে পারবেন। তবে পুরো সরকারি কার্যক্রম কোন গতিতে স্বাভাবিক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আর কখনো এমন কিছু হতে দিতে পারি না। এটি দেশ চালানোর উপায় হতে পারে না।” একই সঙ্গে তিনি ডেমোক্র্যাটদের কঠোর সমালোচনা করেন।

স্বাক্ষরিত আইন অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ব্যয় বাড়ানো হবে, যা আমেরিকার বিশাল সরকারি ঋণে নতুন করে বড় অঙ্কের সংযোজন ঘটাবে।

অচলাবস্থার অবসানে বিশেষ করে বিমান চলাচলসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো পুনরুদ্ধারে আশার সঞ্চার হয়েছে—থ্যাংকসগিভিংয়ের ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এমন উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু হওয়ায় বড়দিনের আগের কেনাকাটার মৌসুমে বহু পরিবার আবার ব্যয় করার সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে।

তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শাটডাউনের কারণে কিছু সরকারি তথ্য হয়তো আর কখনোই পূরণ করা যাবে না। বিশেষ করে অক্টোবরের কর্মসংস্থান ও ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) প্রতিবেদন প্রকাশ না-ও হতে পারে।

নতুন আইন পাসের সময় মাত্র আট দিন আগে ডেমোক্র্যাটরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, এতে ফেডারেল স্বাস্থ্যবীমা ভর্তুকির মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে সিনেটে এ বিষয়ে ভোট হবে; তবে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

বিলটির বিরোধিতায় হাউসে নিজের শেষ ভাষণ দেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ও নবনির্বাচিত গভর্নর মিকি শেরিল। তিনি বলেন, “কংগ্রেস যেন এমন একটি প্রশাসনের জন্য কেবল সিলমোহর হয়ে না যায়, যারা শিশুদের মুখের খাবার কেড়ে নেয় ও মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে ছেঁটে ফেলে।”