বুধবার

,

১৩ই মে, ২০২৬

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ: প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম এখন ‘সমর দপ্তর’

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) নাম ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ (সমর দপ্তর) করার লক্ষ্যে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পদক্ষেপটি কার্যকর হলে আমেরিকার সরকারের সবচেয়ে বড় সংস্থার ওপর ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থানের সরাসরি ছাপ পড়বে।

আদেশ অনুযায়ী, বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ দপ্তরের কর্মকর্তারা সরকারি চিঠিপত্র ও জনসম্মুখের বক্তব্যে ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’, ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ ও ‘ডেপুটি সেক্রেটারি অব ওয়ার’ পদবি ও নাম ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে নাম পরিবর্তন স্থায়ী করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও নির্বাহী প্রক্রিয়ার সুপারিশ দিতে হেগসেথকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকায় কোনো দপ্তরের নাম বদলানো অত্যন্ত বিরল এবং চূড়ান্ত পরিবর্তনে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। বর্তমানে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, হোয়াইট হাউসের মতে এ উদ্যোগে বড় বাধা দেখা নাও দিতে পারে।

ইতিহাসগতভাবে, আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত ‘ওয়ার ডিপার্টমেন্ট’ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–উত্তর প্রেক্ষাপটে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে একীভূত করে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স’ নাম প্রবর্তিত হয়; পারমাণবিক যুগে যুদ্ধ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা-কেন্দ্রিক নীতির ইঙ্গিত ছিল এ পরিবর্তনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাম পাল্টাতে ব্যয়সাপেক্ষ প্রশাসনিক রূপান্তর লাগবে—ওয়াশিংটনের পেন্টাগন ভবন থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ঘাঁটির সাইনেজ, আইডি, প্রটোকল, নীতিপত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। পূর্বে কনফেডারেট নেতাদের নামে থাকা ৯টি ঘাঁটির নাম বদলাতে সেনাবাহিনীর ৩৯ মিলিয়ন ডলার খরচ নির্ধারিত ছিল; তবে চলতি বছরের শুরুতে হেগসেথ উদ্যোগটি বাতিল করেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বিভিন্ন স্থাপনা ও কর্মসূচির নাম ও প্রতীক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে ফেডারেল সরকারের আকার ছোট রাখা ও খরচ কমাতে গড়া ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিশিয়েন্সি’ পেন্টাগনের ব্যয় সংকোচনে অতিরিক্ত পরিকল্পনা করছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।

পরবর্তী ধাপে প্রশাসন কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাবে। অনুমোদন পেলে ‘সমর দপ্তর’ নামটি স্থায়ীভাবে কার্যকর হবে; নচেৎ নির্বাহী আদেশের আওতায় সীমিত ব্যবহারের মধ্যেই থাকছে বর্তমান পরিবর্তন।