বৃহস্পতিবার

,

১১ই জুন, ২০২৬

শি’র ভাষণে ‘আমেরিকা উপেক্ষিত’, অসন্তোষ ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর উপলক্ষে বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে আয়োজিত বৃহৎ কুচকাওয়াজে আমেরিকার ভূমিকাকে সরাসরি উল্লেখ না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “অনুষ্ঠানটি দারুণ ছিল। প্রেসিডেন্ট শি আমার বন্ধু, তবে আমেরিকা চীনকে অনেক সহায়তা করেছে—তার ভাষণে সেটি বলা উচিত ছিল।”

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং দিনটিকে বড় কূটনৈতিক প্রদর্শনীতে রূপ দেন—প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সামনে ভাষণ, পাশে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন; প্রদর্শিত হয় চীনের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা। শি ভাষণে “বিদেশি সরকার ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের” সহায়তার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করলেও আমেরিকাকে আলাদাভাবে নাম নেননি।

ট্রাম্প এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে লেখেন, বেইজিংয়ে সমবেত বিদেশি নেতারা হয়তো “আমেরিকাবিরোধী ষড়যন্ত্র” করছেন। ক্রেমলিন এ মন্তব্যকে বিদ্রূপ হিসেবে দেখেছে বলে জানায়। এ বিষয়ে চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস মন্তব্য করেনি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ১৯৩৭ সালে জাপানের চীন আক্রমণ যুদ্ধের বড় বাঁক, ১৯৪১ সালে যুদ্ধে যুক্ত হয় আমেরিকা; চীনা সেনাদের সহায়তা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় মঞ্চে লড়াইয়ের পর ১৯৪৫–এ জাপানের আত্মসমর্পণে যুদ্ধ শেষ হয়। ট্রাম্পের মতে, সেই অবদানের স্বীকৃতি ভাষণে আলাদা করে থাকা দরকার ছিল।

বর্তমানে ওয়াশিংটন–বেইজিং সম্পর্ক দক্ষিণ চীন সাগর, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির নানা ইস্যুতে টানাপড়েনে থাকলেও ট্রাম্প প্রায়ই শির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক “ইতিবাচক” বলে দাবি করেন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক “সঠিক পথে” নেওয়ার কথা বলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের কুচকাওয়াজ চীনের সামরিক–কূটনৈতিক বার্তা জোরালো করতে সফল হলেও, ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করা দুই পরাশক্তির সম্পর্কের সূক্ষ্ম উত্তেজনাকেই আবার সামনে এনেছে।