সোমবার

,

১৬ই মার্চ, ২০২৬

নারী ভোটাধিকার বাতিল ইস্যুতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সমর্থন নিয়ে সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় নারীদের ভোটাধিকার বাতিল এবং সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত করার দাবি তুলেছেন একাধিক যাজক—যা প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। শনিবার (৯ আগস্ট) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি তুলে ধরেছে।

গণমাধ্যমটি ওই প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হেগসেথ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কমিউনিয়ন অব রিফর্মড ইভানজেলিক্যাল চার্চেস (সিআরইসি) সহপ্রতিষ্ঠাতা ও খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদের প্রচারক ডাগ উইলসনের একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে উইলসন আমেরিকাকে খ্রিস্টান রাষ্ট্রে পরিণত করার আহ্বান জানান এবং নারীদের ভোটাধিকার ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে থাকার অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

একই সাক্ষাৎকারে যাজক টোবি সামটার বলেন, তার মতে ভোট হওয়া উচিত পরিবারভিত্তিক, যেখানে পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে একজন সদস্য (সাধারণত পুরুষ) সবার পক্ষ থেকে ভোট দেবেন। চার্চের এক নারী সদস্য জানান, তিনি স্বামীকে পরিবারের প্রধান হিসেবে মেনে চলেন এবং তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।

ভিডিও পোস্ট করে হেগসেথ লেখেন, জীবনের সব ক্ষেত্রে খ্রিস্টধর্মের বিধান প্রভাব বিস্তার করবে। পোস্টটি ১২ হাজারের বেশি লাইক ও দুই হাজারের বেশি শেয়ার পায়। কিছু ব্যবহারকারী যাজকদের বক্তব্য সমর্থন করলেও অনেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ প্রচারের ঘটনায় উদ্বেগ জানান।

প্রগ্রেসিভ ইভানজেলিকাল সংগঠন ভোট কমন গুড-এর নির্বাহী পরিচালক ও যাজক ডগ পাগিট বলেন, ভিডিওতে প্রচারিত মতামত খ্রিস্টানদের এক ক্ষুদ্র অংশের হলেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তরফে এর প্রচার উদ্বেগজনক। সিএনএন জানায়, জুলাই মাসে ওয়াশিংটনে উইলসনের চার্চ উদ্বোধনে সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন হেগসেথ। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, হেগসেথ সিআরইসি গির্জার গর্বিত সদস্য এবং উইলসনের বহু লেখনী ও শিক্ষার প্রশংসক।

হেগসেথের এই পদক্ষেপ এসেছে এমন সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জোরদার করছে—যার মধ্যে রয়েছে খ্রিস্টান ডানপন্থিদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা এবং ‘খ্রিস্টান-বিরোধী পক্ষপাত’ তদন্তে ফেডারেল টাস্কফোর্স গঠন। ফেব্রুয়ারিতে হেগসেথ হোয়াইট হাউজে একটি ধর্মীয় কার্যালয় স্থাপন করেন, যা সরকারি সিদ্ধান্তে ধর্মীয় মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত করা ও ধর্মবিরোধী পক্ষপাত মোকাবিলায় কাজ করবে। যদিও আমেরিকার সংবিধান রাষ্ট্রধর্ম প্রতিষ্ঠা নিষিদ্ধ করে, তবু এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ঐতিহাসিকভাবে অস্পষ্ট।