বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে চলমান পারস্পরিক শুল্ক বিষয়ক আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় দেশের ব্যবসায়ী মহলে সন্তুষ্টি বিরাজ করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই তৃতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্টির কথা বলেন।
আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনার প্রস্তুতির জন্য অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই বৈঠকের আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিন দিনব্যাপী আলোচনা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক হয়েছে। আমরা আমেরিকাকে যৌক্তিক ও বৈষম্যহীন শুল্কনীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, আলোচনা চলমান থাকায় বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না, তবে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তৃতীয় রাউন্ডের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নীটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) আলোচনার অগ্রগতিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছে।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “সরকার সময়োচিতভাবে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসেছে এবং আমাদের মতামতও গুরুত্ব পাচ্ছে। এটা ব্যবসায়ী সমাজের জন্য স্বস্তির বিষয়।”
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পোশাক পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশ্বখ্যাত খুচরা ব্র্যান্ড ওয়ালমার্ট ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের কিছু পোশাক অর্ডার স্থগিত করেছে বলে রয়টার্স সূত্রে জানা যায়।
গার্মেন্টস খাতের হাজার হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার আমেরিকাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, উচ্চ শুল্ক রপ্তানি সক্ষমতা কমাবে এবং আমেরিকার ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকার আশা করছে, যৌক্তিক আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যাবে। ইতোমধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনার জন্য সময় চেয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ-আমেরিকা শুল্ক আলোচনা এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্যবসায়ী মহলের সন্তুষ্টি ও সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপ এই সংকটের সম্ভাব্য সমাধানে আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে সময় সীমিত, এবং দ্রুত চুক্তি না হলে রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।




