নতুন বছরের প্রথম ২১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ ইউএস ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। শুধু গত সপ্তাহেই প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি একদিনেই দেশে এসেছে ১১ কোটি ডলার। এ নিয়ে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৫৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৫২৮ কোটি ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ। ব্যাংকাররা আশা করছেন, জানুয়ারির বাকি দিনগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স আসবে।
গত ডিসেম্বরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি ডলার, যা নভেম্বরে পাওয়া ২৮৯ কোটি ডলারের চেয়ে ৩৩ কোটি বেশি। ধারাবাহিকভাবে এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সব মিলিয়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। এই আয় বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুতের প্রায় সমান। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমবে এবং আমদানি ব্যয় নির্বাহে সহায়ক হবে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, প্রণোদনা সুবিধা এবং ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহ। তারা আশা করছেন, চলতি অর্থবছরের শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




