বুধবার

,

১২ই আগস্ট, ২০২৬

পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কর নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, বাজারে ফলসহ আমদানি-নির্ভর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কর বা শুল্ক নয়। তিনি জানান, সরকার আমদানি পণ্যে শুল্ক বাড়ায়নি বরং জনস্বার্থে চাল, পেঁয়াজ, আলু ও সয়াবিন আমদানিতে ডিউটি কমানো হয়েছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য কোনো শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়নি। বরং ফল আমদানির ওপর আগে ১০ শতাংশ ইনকাম ট্যাক্স ছিল, সেটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে খেজুর আমদানির ক্ষেত্রেও ডিউটি কমানো হয়েছে।

পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ব্যাখ্যায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ডলারের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। দুই বছর আগে যেখানে ডলারের দাম ছিল ৮০–৮৫ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১২৬–১২৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে যেকোনো পণ্য আমদানির খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।

তিনি জানান, সরকার সামগ্রিকভাবে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দিকে এগোচ্ছে। ট্যারিফ ট্রান্সফরমেশন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে শুল্ক কমানোর সুপারিশ রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আর উচ্চ শুল্ক কাঠামো ধরে রাখতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো হয়।

রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় কিছু ঘাটতি থাকলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি খারাপ নয়। অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার ফলে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন, এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩৪ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনলাইন রিটার্নের মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত বছর ছিল প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ সময়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ করে রিটার্ন জমা পড়তে পারে এবং প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণ আলাদা করার কাজ চলছে। শিগগিরই কমিটির বৈঠক, গেজেট প্রকাশ এবং সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও নির্বাচনের আগেই অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।