ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির কারণে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্টের পোশাক আমদানির কিছু অর্ডার সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ওয়ালমার্টের জন্য পোশাক উৎপাদনকারী অন্তত তিনটি ফ্যাক্টরি এবং একজন সরবরাহকারী এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য নতুন আমদানি শুল্কের আশঙ্কায় ওয়ালমার্ট তাদের কিছু অর্ডার এখনই প্রক্রিয়ায় না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্যাট্রিয়ট ইকো অ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন রয়টার্সকে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ওয়ালমার্টের জন্য ১০ লাখ ইউনিট সুইম শর্টস তৈরির অর্ডার স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ক্লায়েন্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে অর্ডার কার্যকর করা সম্ভব নয় কারণ ওয়াশিংটনে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।”
বাংলাদেশ আমেরিকায় পোশাক রপ্তানির দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ দেশটিতে ৩.৩৮ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।
তবে এখন আমেরিকার শুল্ক নীতির কারণে সেই প্রবৃদ্ধিতে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। ওয়ালমার্ট ছাড়াও অন্যান্য বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যত পরিকল্পনায় সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।
আরেক সরবরাহকারী ক্লাসিক ফ্যাশনের সহকারী ব্যবস্থাপক ফারুক সাইয়্যাদ জানিয়েছেন, “স্প্রিং সিজনের কিছু অর্ডার এখন থেমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন কার্যাদেশ দেওয়া হবে না বলেই তারা জানিয়েছে।”
ডেনিম এক্সপার্টস লিমিটেডের নির্বাহী মোহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “৩৫ শতাংশ শুল্ক যদি কার্যকর হয়, তাহলে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় পোশাক রপ্তানি করা অলাভজনক হয়ে যাবে। বড় ব্র্যান্ডগুলো একদিকে শুল্কের চাপ আর অন্যদিকে উৎপাদন খরচের ভার নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে।”
ওয়ালমার্টের অর্ডার স্থগিত হওয়ার খবরে বাংলাদেশি পোশাক প্রস্তুতকারকরা ইউরোপসহ অন্যান্য বাজারের দিকে ঝুঁকছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই স্টক বাড়িয়ে রেখেছিল, তবে এখন তারা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় প্রস্তুত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে শুল্ক সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরা যায়। একই সঙ্গে রপ্তানি হ্রাসের প্রভাব মোকাবেলায় শিল্প মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আলোচনায় বসছে।




