আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের চাল আমদানির ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্ববাজারে চালের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ ভারত ইতোমধ্যেই আমেরিকার শুল্কনীতির কারণে চাপের মুখে রয়েছে। এবার আলাদাভাবে চালের ওপর শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সস্তা বিদেশি কৃষিপণ্য আমেরিকার উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির কৃষকরা। তাঁদের দাবির ভিত্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার সার ও ভারতের চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের কথা ভাবছে।
ইনডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত আমেরিকায় ৩৩৭.১০ মিলিয়ন ডলারের বাসমতি চাল রপ্তানি করেছে, যার পরিমাণ ২৭৪,২১৩ মেট্রিক টন। আমেরিকা ভারতের বাসমতি চালের চতুর্থ বৃহৎ বাজার।
একই সময়ে ট্রাম্প কৃষকদের জন্য ১২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ কৃষকদের সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। সয়াবিন ও শস্য উৎপাদকদের জন্য এককালীন ১১ বিলিয়ন ডলার এবং ফল ও সবজি চাষিদের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হবে। যেসব খামারের বার্ষিক আয় ৯ লাখ ডলারের কম, তারা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাবে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এ অর্থ বিতরণ শুরু হবে।
কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, ভারত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশ থেকে ভর্তুকি দেওয়া চাল আমদানির ফলে আমেরিকায় চালের দাম কমছে এবং স্থানীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত যদি চালের ক্ষেত্রে ডাম্পিং করে থাকে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ভারতীয় চাল আমদানির বিরুদ্ধে আগ্রাসী শুল্কনীতি গ্রহণ করা হতে পারে।
ট্রাম্পের সমর্থকরা মনে করছেন, শুল্কের অর্থ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করা হচ্ছে, ফলে করদাতাদের বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে না। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এটি আসলে শুল্কের প্রভাব মোকাবেলায় এক ধরনের বেল আউট।
কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প কানাডার সার আমদানির ওপরও নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। পাশাপাশি পানি বণ্টন চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর ওপর ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সতর্কবার্তা দেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, চলমান বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া অবস্থায় আমেরিকার কৃষকদের সুরক্ষায় শুল্কই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তিনি ঘোষণা করেন, কৃষকদের সহায়তায় প্রশাসন ১২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেবে, যা আমেরিকার বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর আরোপিত শুল্ক থেকেই তোলা হবে।




