দেশে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা কমাতে কৃষি মন্ত্রণালয় ৫০ জন আমদানিকারককে মোট ১,৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ প্রবেশ শুরু করেছে এবং বাজারে দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। দিনাজপুরের হিলি খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫০ টাকা।
পাবনা, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জেও নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম কমেছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গত রবিবার ভারত থেকে একটি ট্রাক হিলি বন্দরে প্রবেশের পর পেঁয়াজ ট্রাক সেল হয়েছে প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে। স্থানীয় বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আমদানির খবরেই বাজারে দাম হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে দেশি কাঁচা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়, যা কয়েকদিন আগে ছিল ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। শুকনা পেঁয়াজও ১০০ থেকে ১৪০ টাকা থেকে নেমে এসেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার আরও ৪১৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত যে পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, তা সোমবার ৬৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনামসজিদ উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, অনুমতি পাওয়া আমদানিকারকদের মধ্যে ২৭ জন এই বন্দরের মাধ্যমে পেঁয়াজ আনছেন।
দিনাজপুর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ইতোমধ্যে পাঁচটি ট্রাকে ১৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ প্রবেশ করেছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ভারতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে, যা পরিবহন ও শুল্কসহ দেশে এসে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩৯ টাকা। পাইকারি বাজারে তা ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম নেমে এসেছে ৭০ টাকায়, যেখানে কয়েকদিন আগে একই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ১২০ টাকায়।
আমদানিকারকরা মনে করছেন, নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দাম স্থিতিশীল থাকবে। সোনামসজিদ বন্দরে প্রথম দিনে ৬০ টন পেঁয়াজ প্রবেশ করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমদানিকারকরা নিয়মিত এলসি খুললে প্রতিদিনই পেঁয়াজ আনা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন পর পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়ছে এবং ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, এতে বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে।




