বুধবার

,

১০ই ডিসেম্বর, ২০২৫

এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখবে ডব্লিউটিও

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও পর্যাপ্ত সমর্থন ও কারিগরি সহায়তা পাবেন।

ডব্লিউটিওর উপ-মহাপরিচালক শিয়াংচেন ঝাং এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে বলেন, “উত্তরণের পরও বাংলাদেশ আমাদের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থেকে উপকৃত হতে থাকবে। এছাড়া দেশটি ইনহ্যান্সড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক সুবিধা আরও পাঁচ বছর গ্রহণ করতে পারবে।”

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সাক্ষাৎকাটি প্রকাশ করে।

সাক্ষাৎকারে ডব্লিউটিওর উপ-মহাপরিচালক জানান, ইআইএফ-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাণিজ্যে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারছে এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও তৈরি পোশাক খাতে মান বৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্য আনতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া এইড ফর ট্রেড ইনিশিয়েটিভ-এর আওতায় ২০০৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার সমমূল্যের সহায়তা পেয়েছে।

ঝাং আরও বলেন, বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ডব্লিউটিও রেফারেন্স সেন্টার হিসেবে কাজ করছে, যা নথি ও বাণিজ্য সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে তার অংশগ্রহণের কৌশল পরিবর্তন করতে হবে। এখন থেকে দেশটি এলডিসি গ্রুপের অংশ হিসেবে নয়, বরং উন্নয়নশীল ডব্লিউটিও সদস্যদের সঙ্গে কৌশলগত জোট গঠন এবং প্রতিযোগিতামূলক কৌশল গ্রহণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশ ১৯৯৫ সাল থেকে ডব্লিউটিওর সদস্য। ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণ দেশটির বাণিজ্য নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ নিয়ে আসবে। ডব্লিউটিওর সহায়তায় বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও সহজীকরণে অংশগ্রহণ এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, আঞ্চলিক চুক্তি যেমন আরসিইপি-এ যোগদানের সম্ভাবনা অন্বেষণ করছে।

ডব্লিউটিওর কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়নশীল বাণিজ্য সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।