টানা দ্বিতীয়বারের মতো এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে রংপুর বিভাগ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরের ফাইনালে খুলনা বিভাগকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।
গত আসরেও রংপুরই ছিল শিরোপাজয়ী দল—তখন তারা ঢাকা মেট্রোকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথম আসরের ট্রফি জিতেছিল।
রবিবারের ফাইনালে টস জিতে খুলনাকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় রংপুর। শুরুতেই বিপাকে পড়ে খুলনা বিভাগ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার ইমরানুজ্জামান খালি হাতে আউট হন। সপ্তম ওভারে জোড়া আঘাত হানে রংপুর—রান আউট হন এনামুল হক বিজয় (১৫ বলে ১২), আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার ফেরেন ৮ রান করে।
২১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিথুন। আফিফ হোসেন (১৪) ও শেখ পারভেজ জীবন (৮)-এর সঙ্গে দুটি ছোট জুটি গড়ে ইনিংস মজবুত করার চেষ্টা করেন তিনি। মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৪৪ রানের জুটি গড়ে খানিকটা লড়াই ফেরান মিথুন। মৃত্যুঞ্জয় ১৩ বলে ২৪ রান করেন ২টি চার ও ২টি ছক্কায়।
হাফ-সেঞ্চুরির আভাস দিয়েও ৪৪ রানে আউট হন মিথুন। শেষ দিকে জিয়াউর রহমানের ৯ ও নাহিদুল ইসলামের ১১ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৬ রান তোলে খুলনা। রংপুরের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল মামুন নেন ২টি উইকেট।
জবাবে রংপুরের ব্যাটাররা দারুণ সূচনা করেন। ওপেনার জাহিদ জাভেদ ও নাসির হোসেন ৭ ওভারে ৬১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়পথে এগিয়ে দেন। জাহিদ ২৪ বলে ২৭ রান করে আউট হলেও নাসির খেলেন কার্যকর ইনিংস—৩১ বলে ৪৬ রান, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা।
দলীয় ৮৪ রানে নাসির ফিরলেও জয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়নি। আবু হাসিম (৩২ বলে ৪০*) ও নাইম ইসলাম (১৫ বলে ১৯*) তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৫৪ রানের জুটি গড়ে মাত্র ১৮ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন রংপুরের।
ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন রংপুরের নাসির হোসেন, যিনি ব্যাটে ও নেতৃত্বে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।
ফাইনাল স্কোর সংক্ষেপে:
খুলনা বিভাগ – ১৩৬/৮ (২০ ওভার)
রংপুর বিভাগ – ১৩৭/২ (১৭ ওভার)
রংপুর জয়ী ৮ উইকেটে
এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে কে কোন পুরস্কার পেলেন:
ফাইনাল সেরা: নাসির হোসেন, রংপুর (৪-১-১৯-০, ৩১ বল ৪৬ রান),
সেরা ফিল্ডার: এস এম মেহরাব, ঢাকা মেট্রো (৫ ক্যাচ),
প্রমিসিং প্লেয়ার: মোহাম্মাদ রুবেল, চট্টগ্রাম (৮ ম্যাচ ১০ উইকেট),
সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক: মাহমুদুল হাসান জয়, চট্টগ্রাম (৮ ম্যাচ ৩২৩ রান),
সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক: হাসান মুরাদ, চট্টগ্রাম (৮ ম্যাচ ১৪ উইকেট),
প্লেয়ার অব দ্যা টুর্নামেন্ট: আকবর আলী (৮ ম্যাচ ২২২ রান, চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক)।




