লালনগীতির কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন আবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিল্পীকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।
ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিকিৎসক আশীষ কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফরিদা পারভীনের রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সংক্রমণ বেড়ে গেছে। কিডনি জটিলতাও রয়েছে। তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন না। তাই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছেন ফরিদা পারভীন। ২ সেপ্টেম্বর ডায়ালাইসিসের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। কিন্তু ডায়ালাইসিসের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আজ অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।
ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে তার স্বামী যন্ত্রসংগীতশিল্পী গাজী আবদুল হাকিম বলেছেন, সার্বিকভাবে তার অবস্থা ভালো নয়। গত কয়েক মাসে চারবার আইসিইউতে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। ফুসফুস আর কিডনিজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন তিনি।
এর আগে, গত ৫ জুলাই ফরিদা পারভীন তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি হন। চিকিৎসা শেষে ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি নিজ বাসায় ফিরে আসেন।
সংগীতাঙ্গনের অনেকে সামাজিক মাধ্যমে ফরিদা পারভীনের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পী তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছেন।
ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি বয়সজনিত অন্যান্য রোগও তাকে দুর্বল করে তুলেছে।
শিল্পী ফরিদা পারভীন বাংলাদেশের লোকসংগীতের এক অনন্য প্রতিভা। বহু জনপ্রিয় লালনগীতি তার কণ্ঠে অমর হয়ে আছে। সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে তিনি ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।




