শনিবার

,

৮ই আগস্ট, ২০২৬

বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য গোপন: এনবিআরের নজরে ১৩০০ মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য কর ফাইলে না দেখিয়ে আয় গোপনের অভিযোগে ১,৩০০–র বেশি মালিককে শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। এদের মধ্যে ৪০৯ জন এ পর্যন্ত কোনো ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নই জমা দেননি। সিআইসির সাম্প্রতিক অনুসন্ধানের প্রাথমিক ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সিআইসি জানায়, যেসব গাড়ির মালিকদের চিহ্নিত করা হয়েছে—সব কটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে নিবন্ধিত। প্রতিটি গাড়ির সম্ভাব্য মূল্য (শুল্ক ও করসহ) ১ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে। তালিকায় রয়েছে টয়োটা, বিএমডাব্লিউ, মার্সিডিজ, জিপ, ল্যান্ড রোভার, অডি, রেঞ্জ রোভার, পোরশে, জাগুয়ার, বেন্টলি, রোলস–রয়েস, ক্যাডিলাক, মেসারাতি, টেসলা, ফেরারি ও ল্যাম্বোরগিনি পর্যন্ত—যা দেশের প্রিমিয়াম ও সুপার–লাক্সারি সেগমেন্টকে নির্দেশ করে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এসব মালিকের মধ্যে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, তাদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব বলেন, “এই মালিকরা তাদের কর ফাইলে গাড়ির তথ্য উল্লেখ করেননি—অর্থাৎ, গাড়ি কেনার সমপরিমাণ আয় গোপন করেছেন। তার মানে এই আয় অবৈধ উৎস থেকেও হতে পারে।” তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলগুলোকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিআইসির প্রাথমিক হিসাব, এই খাত থেকে এক হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা আছে।

সারা দেশে বিলাসবহুল হিসেবে বিবেচিত ৫,৪৮৯টি গাড়ির তথ্য বিআরটিএ থেকে সংগ্রহ করে ক্রস–ম্যাচিং করে দেখেছে সিআইসি। এর মধ্যে ২,৭১৯টি গাড়ির মালিক কর ফাইলে সম্পদ হিসেবে গাড়ির তথ্য দিয়েছেন। তবে এসব ঘোষণার মধ্যেও ১৪৮টি ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে—যার জন্য পুনঃতদন্ত শুরু হয়েছে। বাকি ১,৩০০–র বেশি মালিক কর ফাইলে গাড়ির কোনো তথ্যই দেখাননি বলে অভিযোগ।

সিআইসি জানায়, গত পাঁচ করবর্ষ—ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত—বিআরটিএর ডাটাবেস থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন মিলিয়ে এই অনুসন্ধান করা হয়েছে। এখন ব্যক্তিগত করদাতা ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উৎস কর, সম্পদের উৎসের বৈধতা, অব্যাহতি সুবিধা অপব্যবহার—ইত্যাদি ধারা–উপধারায় পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ, নোটিশ ও নিরীক্ষা (অডিট) চলবে। আইন অনুযায়ী, গোপন আয়ের ওপর কর, সারচার্জ, সুদ ও জরিমানা আরোপ—এবং প্রয়োজন হলে দণ্ডবিধির আওতায় মামলা—নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআর সূত্র বলছে, বড় টিকিট সম্পদে ‘ডাটা–অ্যানালিটিক্স’–ভিত্তিক সামগ্রিক নজরদারির অংশ হিসেবেই এই অভিযান। আগামীতে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, উচ্চমূল্যের আমদানিপণ্য, বিদেশভ্রমণ ও ক্রেডিট–কার্ড খরচের সঙ্গেও কর রিটার্নের ক্রস–চেকিং বাড়ানো হবে। উদ্দেশ্য—উচ্চ আয়ের করদাতাদের কর–নেটের মধ্যে আনা এবং ঘোষণাহীন সম্পদ চিহ্নিত করে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি।