সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে মতামত দেওয়ায় নিয়মিতই সমালোচনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। এবার জোর করে তাকে রাজনৈতিক কোনো বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শবনম ফারিয়া জানান, তাকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে—যা তিনি প্রত্যাখ্যান করছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনৈতিক বিষয়ে তার অবস্থান নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা তৈরির প্রচেষ্টা তিনি মেনে নেবেন না।
শবনম ফারিয়া ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘জীবনে কিছু বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেগুলোর জন্য নিজে কোনোভাবেই দায়ী নই। যেমন, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা-ই লিখি, কিছুক্ষণ পর দেখি সেটা খবর হিসেবে ছাপা হচ্ছে! প্রথমে হাসাহাসি করতাম, পরে বিব্রত বোধ হতো, আর এখন যেহেতু নিয়মিত অভিনয় করি না তাই এগুলো ‘হু কেয়ার’ মুডে ঢুকে গেছি। কিন্তু কিছু ঘটনা থাকে, যেগুলো শুধু বিব্রতকর না, বিরক্তিকরও বটে! বিশেষ করে, জোর করে আমাকে রাজনৈতিক কোনো বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা।’
তিনি জানান, ‘আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব রাজনৈতিক দল আছে বা সম্প্রতি নিষিদ্ধ হয়েছে, তাদের কারোর সঙ্গেই আমার কোনো সমর্থন নেই। আমার পেজ পাবলিক, সেখানে যেমন কালা মাগুর কমেন্ট করতে পারে, তেমনি নীল তিমি, কাউয়া কিংবা টিয়াও পারে! তাতে আমার রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিফলিত হয় না। আমি কোনো রাজনৈতিক চরিত্র নই।’
ছোটপর্দার ব্যস্ততম অভিনয়শিল্পীদের একজন হলেও শবনম ফারিয়া সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ে খানিকটা অনিয়মিত। তবু সামাজিক-সমসাময়িক নানা ঘটনা নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করে থাকেন তিনি; আর সেই কারণেই প্রতিপক্ষের রোষানলে পড়তে হয়—এ কথাও পোস্টে উল্লেখ করেন ফারিয়া।
শবনম ফারিয়া বলেন, ‘ভবিষ্যতে নিজেকে একজন সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমি শিল্পী, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশ হতে চাই। রাজনীতি আমার ‘মঞ্চ’ না। ভালোকে ভালো, খারাপকে খারাপ, চোরকে চোর, আর চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ বলাই আমার নীতিতে পড়ে।’
ব্যক্তিগত জীবনে খুব কঠিন ও সংকটপূর্ণ একটা সময় পার করার কথা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। তা না হলে অভিনয় এর পাশাপাশি চাকরি না করে, টিকটকে নাচতাম, জিম করতাম, আর ব্যাকা হয়ে দাঁড়িয়ে পশ্চাৎদেশের মিরর সেলফি দিতাম। এই দেশে অ্যাটেনশনের জন্য খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না, আমিও জানি, আপনারাও জানেন।’
সবশেষে কাউকে অহেতুক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করার অনুরোধও জানান ফারিয়া। বলেন, ‘ আমি এখন ব্যক্তিগতভাবে খুব কঠিন ও সংকটপূর্ণ একটা সময় পার করছি। আল্লাহর দোহাই লাগে, দয়া করে অন্য কাউকে অহেতুক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করুন। না হলে এমন এক অবস্থায় পড়বেন, যেখানে হেলিকপ্টার, ট্যাংক বা এমনকি বুড়িগঙ্গার ময়লা পানিতে ডুব দিয়েও পালাতে পারবেন না!’
অভিনয়জগতের সহশিল্পী ও ভক্তদের কেউ কেউ তার পোস্টে সমর্থন জানালেও এ বিষয়ে শবনম ফারিয়া অতিরিক্ত কোনো কথা জানাননি। অভিনেত্রীর দাবি, ব্যক্তিগত মত প্রকাশের অধিকারের প্রশ্নে তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ভুল ব্যাখ্যা করা হলে তার বিরুদ্ধাচরণ করবেন তিনি।
শিল্পীসমাজের একটি অংশ মনে করছে, জনপরিচিত ব্যক্তিদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো—জনগণের তথ্য জানার অধিকার ও সুস্থ নাগরিক আলোচনার জন্য জরুরি।




