বুয়েনস আইরেসের মোনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভেনেজুয়েলাকে ৩–০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। জোড়া গোল করেছেন লিওনেল মেসি (৩৯’ ও ৮০’), আরেকটি লওতারো মার্তিনেসের (৭৬’)।
গ্যালারি কানায় কানায় ভরা, ভিআইপি বক্সে ছিলেন মেসির স্ত্রী–সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা—সব মিলিয়ে রাতটি রূপ নেয় আবেগঘন এক আর্জেন্টাইন উৎসবে।
৫ সেপ্টেম্বর কিক–অফের আগেই গ্যালারিতে বাজতে থাকে মেসি–স্তুতির গান; ওয়ার্ম–আপে তাঁর চোখ ভেজা দেখা যায় ক্যামেরায়। ম্যাচশেষে মেসি বলেন, “সবকিছুই অনেক বেশি আবেগের ছিল… আর্জেন্টিনায় আমাদের মানুষের সামনে খেলা সব সময়ই আনন্দের। এখানে এভাবে শেষ করতে পেরে (স্বপ্নের মতো) খুব খুশি।”
৩৯ মিনিটে প্রথম গোল: লিয়ান্দ্রো পারেদেসের লং বল হুলিয়ান আলভারেস এক টাচে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মেসিকে ছোট পাসে খুঁজে দেন; মেসির সূক্ষ্ম চিপ শট গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে জালে।
৭৬ মিনিটে ২–০: ডি–বক্সে ঠাণ্ডা মাথায় ফিনিশ করেন লওতারো মার্তিনেস।
৮০ মিনিটে মেসির দ্বিতীয় গোল: তিয়াগো আলমাদার পাস থেকে প্রথম স্পর্শেই নিখুঁত শট। এই গোলের সঙ্গে লাতিন বাছাইপর্বে মেসির গোল সংখ্যা দাঁড়ায় আট—চলতি চক্রে শীর্ষে।
মেসি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর্জেন্টিনার মাটিতে এটি তাঁর “শেষ বাছাইয়ের ম্যাচ” হতে পারে। ২০০৫ সালে এই মোনুমেন্তালেই তাঁর হোম–ডেব্যু হয়েছিল; দুই দশক পর একই ভেন্যুতে এমন সম্ভাব্য ‘বিদায়ী’ আবহ আরও আবেগ ঘনীভূত করে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের মাটিতে আর্জেন্টিনার আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ নেই; প্রীতি ম্যাচ হলে সেটি হবে আলাদা প্রসঙ্গ।
কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, ১০ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে বাছাইয়ের ম্যাচে মেসি থাকছেন না। তবু বিশ্লেষকদের মতে, এটি মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পূর্ণবিরতি নয়; কোপা–পরবর্তী পথচলায় আরও কিছু মাইলফলক ছোঁয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আবেগ, পারফরম্যান্স ও ফলাফল—তিনটির নিখুঁত মিশেলে মোনুমেন্তালের রাতটি আর্জেন্টাইন ফুটবল ও মেসি–যুগের স্মরণীয় অধ্যায়ে জায়গা করে নিল।




