নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে হারলেম নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ১৬ বছর বয়সী এক তরুণীর জীবন বাঁচিয়েছেন তিন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা। ১১ নভেম্বর দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় জীবন বাজি রেখে উদ্ধারকাজে অংশ নেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ অফিসার শুয়াইবুল আমিন (২৭), ভারতের অঙ্কিত গুপ্ত (২৭) এবং হিস্প্যানিক বংশোদ্ভূত উইলমার গুয়েরেরো (৩২)।
নিউ ইয়র্কের ডেইলি নিউজ–এ ১৩ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, টহলরত পুলিশ সদস্যরা তরুণীকে হারলেম নদীর উপরের একটি ব্রিজের কার্নিশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দ্রুত তার দিকে এগিয়ে যান। নিরাপদ স্থানে নেমে আসার অনুরোধ করলেও সাড়া দেননি তিনি। শুয়াইবুল আমিন তার হাত ধরে টেনে আনার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।
এর পরপরই তরুণী হিমশীতল নদীতে লাফ দেন এবং সাঁতার না জানার কথা চিৎকার করে জানান। নদীর কিনারা থেকে প্রায় ২০–৩০ ফুট দূরে ডুবে যেতে দেখে অফিসার উইলমার গুয়েরেরো মুহূর্তের মধ্যে নিজের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও রিভলভার বেল্ট খুলে পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে তরুণীকে ধরে ভেসে ওঠেন।
নদীর ধারে পৌঁছালে শুয়াইবুল আমিন ও অঙ্কিত গুপ্ত মিলে তরুণীকে টেনে তুলতে সহায়তা করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং তরুণীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পানিতে ঝাঁপ দেওয়া অফিসার উইলমার গুয়েরেরো বলেন, “নদীতে নামতেই বুঝলাম কত ঠান্ডা। তখন একটাই চিন্তা—তরুণীকে যেন বাঁচানো যায়। তাকে দ্বিতীয় জীবন দিতে পেরে আমি সন্তুষ্ট।”
অফিসার অঙ্কিত গুপ্ত বলেন, “আমি আশা করি তিনি বুঝতে পারবেন—আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়। তিনি একা নন, আমরা তার পাশে আছি। সমাজে আরও অনেক মানুষ আছেন যারা তার মানসিক ও অর্থনৈতিক কষ্ট কমাতে সহায়তা করতে পারেন।”
শুয়াইবুল আমিন বলেন, “সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া যে আমরা সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পেরেছি। আশা করি তিনি প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা পেয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবেন। আমি তার সুন্দর জীবনের কামনা করি।”
এর আগে প্রায় নয় বছর আগে নোয়াখালীর পুলিশ অফিসার রাজুব ভৌমিক হাডসন নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এক আত্মঘাতীকে বাঁচিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এবার আবারও বাংলাদেশি এক পুলিশ কর্মকর্তা নিজের জীবনবাজি রেখে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।



