বুধবার

,

১০ই ডিসেম্বর, ২০২৫

এক ভিসায় ইউএই–সৌদি–কাতারসহ ছয় দেশ ভ্রমণ, চালু ২০২৬ সালে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) বহুল প্রতীক্ষিত একক পর্যটন ভিসা চালুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। আঞ্চলিক ভ্রমণ ও পর্যটন খাতকে সংযুক্ত করতে আগামী বছর (২০২৬) এই ভিসা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শেনজেন ভিসার আদলে এই যৌথ ভিসা কার্যকর করা হবে।

জানা গেছে, ভিসার দাপ্তরিক নাম হবে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরস ভিসা’। একবার আবেদন করেই ভ্রমণকারীরা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান—এই ছয় দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে ভিসাটি পর্যটন ও পারিবারিক ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য থাকবে এবং আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যাবে।

জিসিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নথি আপলোড, ফি পরিশোধ ও ই-মেইলে ডিজিটাল ভিসা গ্রহণ করা যাবে। ভ্রমণকারীরা চাইলে একটি দেশ বা ছয়টিই বেছে নিতে পারবেন। মেয়াদ ১–৩ মাসের মধ্যে থাকার কথা; পৃথক ভিসার তুলনায় কম খরচ হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

ভিসা চালুর পর আবেদনকারীদের কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদী পাসপোর্ট, আবাসনের তথ্য, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ভ্রমণ বিমা ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং ফেরার বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট জমা দিতে হবে।

সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খাতিব বলেন, চার বছরের সমন্বিত প্রচেষ্টার পর এই উদ্যোগটি মাইলফলকে পৌঁছেছে। তাঁর ভাষায়, জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে পর্যটনকে সংযুক্ত করতে এটি “সবচেয়ে বড় পদক্ষেপগুলোর একটি”। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় এক ফোরামে তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, আধুনিক অবকাঠামো ও নিরাপদ পরিবেশের কারণে জিসিসি এখন পর্যটনে ঐতিহাসিক সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে ওমানের মাস্কাটে জিসিসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে একক ভিসা প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। তখনই শেনজেন ভিসার আদলে যৌথ মডেল হিসেবে পরিকল্পনা নেওয়া হয়। জিসিসি একক ভিসা চালু হলে পর্যটকদের অবস্থানকাল বাড়বে, বহুশহর ভ্রমণ বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটন ব্যয় ছয় দেশে ছড়িয়ে পড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা।

জিসিসি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক মাসে আরও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে আবেদন পোর্টাল চালু করা হবে।