গাজা সম্পূর্ণরূপে দখলের ইসরায়েলের পরিকল্পনা মোকাবেলায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একটি জরুরি বৈঠক আহ্বানের ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। শনিবার (৯ আগস্ট) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ তথ্য জানান।
তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান বলেন, “ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের সভাপতি হিসেবে আমরা একটি বৈঠক ডাকতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ইসরায়েলের উদ্দেশ্যের নিন্দা জানিয়ে ফিদান বলেন, “আমরা গাজা সম্পূর্ণরূপে দখলের পরিকল্পনাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এটি ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী ও গণহত্যামূলক নীতির নতুন ধাপ।” তিনি আরও জানান, তুরস্ক ও মিশর একসঙ্গে এই ধরনের পরিস্থিতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে থাকবে।
মানবিক সহায়তার বিষয়ে ফিদান বলেন, “আমরা গাজার জনগণের জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন সহায়তা পাঠিয়েছি। এ প্রক্রিয়ায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার জন্য আমরা মিশরকে ধন্যবাদ জানাই।”
২০২৩ সাল থেকে ইসরায়েল গাজায় অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। অবিরাম বোমাবর্ষণে অঞ্চলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, খাদ্য সংকট তীব্র হয়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ছাড়িয়েছে এবং দেড় লাখেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। অনেকেই এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
এদিকে, গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, ইসরায়েল গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিচারের মুখোমুখি রয়েছে।
সম্প্রতি নেতানিয়াহু সরকারের মন্ত্রিসভা গাজা সম্পূর্ণ দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।




