বুধবার

,

১২ই আগস্ট, ২০২৬

শুল্কবিরোধের জেরে সংকটে ভারতের পোশাক রপ্তানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পোশাক খাত বড় ধাক্কায় পড়েছে আমেরিকার সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত বিরোধে। বেশ কয়েকটি আমেরিকান কোম্পানি ভারতের পোশাক কেনা স্থগিত করেছে, ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর। একই সঙ্গে তারা উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, শুল্কসংক্রান্ত বিরোধ না মেটা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা হবে না। এনডিটিভি জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবেই আমেরিকা এই শুল্ক আরোপ করেছে। প্রশাসনের ভাষ্য, পদক্ষেপটি জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে তুরস্কের টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, আমেরিকার কিছু ক্রেতা ইতিমধ্যে অর্ডার বাতিল বা স্থগিত করেছে। গ্যাপ ও কোল’সের সরবরাহকারী পার্ল গ্লোবাল জানায়, শুল্ক ঘোষণার পর থেকেই গ্রাহকরা বিকল্প উৎপাদনস্থল খুঁজছেন। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও গুয়াতেমালায় কারখানা থাকায় সেখানেই অর্ডার সরিয়ে নেওয়ার আলোচনা চলছে।

রিচাকো এক্সপোর্টস চলতি বছর আমেরিকায় ১১৩ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক দিনেশ রহেজা বলেন, “শিল্পে এখন খরা চলছে। আমরা নেপালের কাঠমান্ডুতে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছি।” ভারতের শীর্ষ প্রস্তুতকারক রেমন্ডও ইথিওপিয়ায় উৎপাদন বাড়ানোর কথা ভাবছে, যেখানে শুল্ক মাত্র ১০ শতাংশ।

আমেরিকা ভারতের তৈরি পোশাকের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে—৭ আগস্ট থেকে ২৫ শতাংশ কার্যকর হয়েছে, আর ২৮ আগস্ট থেকে আরও ২৫ শতাংশ যোগ হবে। তুলনায়, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের পোশাকের ওপর ২০ শতাংশ এবং চীনের পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধ চলতে থাকলে ভারতের পোশাক খাত বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং ক্রেতারা ধীরে ধীরে কম শুল্কযুক্ত দেশগুলোর দিকে ঝুঁকবে।