সোমবার

,

১৬ই মার্চ, ২০২৬

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে ৬ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার চালানো সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। রাশিয়া শুক্রবার রাতভর ৫৯৭টি ড্রোন ও ২৬টি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে শনিবার জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি রাশিয়ার সাম্প্রতিক রেকর্ড পরিমাণ হামলা ঠেকাতে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানান।

সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাশিয়া হামলায় ৫৯৭টি ড্রোন, ২৬টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড বোমা ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৩১৯টি ড্রোন ও ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও কিছু হামলা সফলভাবে আঘাত হানে বিভিন্ন স্থাপনায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে নির্মমতা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও শক্ত প্রতিরক্ষা সহায়তা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আহ্বান জানান।

চেরনিভ্সি ও ডনিপ্রো এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চেরনিভ্সিতে একটি ড্রোন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডনিপ্রোতে একটি বেসামরিক আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে প্রাণ হারান আরও দুইজন। খারকিভ ও সুমি অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যেখানে একটি গাইডেড বোমা হামলায় একজন নিহত হন।

পশ্চিমাঞ্চলের লভিভ অঞ্চলেও হামলা চালানো হয়, যেখানে ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য ব্যবহৃত অবকাঠামো অবস্থিত। এসব অঞ্চলে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

রুশ হামলার পর প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডের সীমান্ত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় ন্যাটো যুদ্ধবিমানগুলো সতর্কভাবে উড়ান শুরু করে। পোলিশ সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেনি, তবে তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের আক্রমণ ইউক্রেনের সরবরাহ ব্যবস্থা ও পশ্চিমা সহায়তার প্রবাহ ব্যাহত করতে রাশিয়ার কৌশলের অংশ। ইউক্রেন সরকার বলছে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বেসামরিক জনগণের ওপর ঝুঁকি বাড়ছে।

এই ঘটনায় ইউক্রেনের জনগণ আবারও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তা এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠছে।