ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সামরিক সহায়তা পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি আমেরিকার কাছ থেকে ‘প্রয়োজনীয় সব রাজনৈতিক বার্তা’ পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রোমে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
জেলেনস্কি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনায় ‘গঠনমূলক অগ্রগতি’ হয়েছে এবং সেই আলোচনার পরই আমেরিকা ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের একটি সময়সূচি এবং সরবরাহের বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদার করার জন্য ইউরোপীয় মিত্ররা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহে অর্থায়নে অংশ নিচ্ছে। এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
“আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে শুধুমাত্র সহানুভূতির কথা নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পাচ্ছি,” বলেন জেলেনস্কি। “প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানো হবে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী। এতে আমাদের ফ্রন্টলাইনে অবস্থান করা সেনাদের মনোবল বাড়বে।”
রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন প্রায় আড়াই বছর ধরে লড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন সরকারের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল—পশ্চিমা সামরিক সহায়তা বাড়ানো ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন। আমেরিকায় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সম্ভাবনার কারণে অনেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে কি না।
জেলেনস্কির এ ঘোষণায় ইউক্রেনীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও আশ্বাস দিয়েছেন, তারা ইউক্রেনকে শুধু অস্ত্র নয়, পুনর্গঠনেও সহায়তা করবে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক সহায়তার বিষয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের নতুন উদ্যোগ ইউক্রেন যুদ্ধের গতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




