মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী নেতা টুন ড. মাহাথির বিন মুহাম্মদ আজ ১০০ বছরে পা দিয়েছেন। শতবর্ষী এই নেতাকে ঘিরে দেশজুড়ে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে তাঁর জন্মবার্ষিকী।
৬ জুলাই, তার জন্মদিনের আগেই কুয়ালালামপুরের আম্পাং জয়ার ”কোলুম্পো কোপিটিয়াম” রেস্টুরেন্টে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, অনুসারী ও ভক্তদের সঙ্গে একটি সরল প্রাতঃরাশ আয়োজিত হয়। সেখানে মাহাথির কেক কাটেন এবং উপস্থিত সবাই তাঁকে অভিনন্দন জানান। আয়োজনে মালয়েশিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরাও অংশ নেন।
১০ জুলাই মাহাথিরের জন্মদিন উপলক্ষে একটি বিশেষ পডকাস্ট লাইভ আয়োজনের কথা রয়েছে, যেখানে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা হবে। ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল থেকে শুভেচ্ছা বার্তা আসতে শুরু করেছে। মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জামাল আবদিল্লাহ তাকে “জাতির কণ্ঠস্বর” হিসেবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মাহাথির এই বিশেষ দিনে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও, নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে বলেন, “এক শতাব্দী একটি দীর্ঘ সময়। এই সময়ের মধ্যে আমি দেখেছি যুদ্ধ, সাম্রাজ্যবাদের পতন, উন্নয়ন এবং মানুষের জাগরণ। আমি গর্বিত যে আমার দেশ এই পরিবর্তনের অংশ হয়েছে।”
ড. মাহাথির মুহাম্মদ ১৯২৫ সালের ১০ জুলাই মালয়েশিয়ার আলোর সেটারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৩ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভের পর সরকারি ডাক্তার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৮১ সালে তিনি প্রথমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং টানা ২২ বছর দেশ পরিচালনা করেন। এরপর ২০১৮ সালে, ৯২ বছর বয়সে তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে এসে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
তার নেতৃত্বেই গড়ে উঠেছে কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, মালয়েশিয়ার আধুনিক অবকাঠামো, জাতীয় গাড়ি প্রকল্প ‘প্রোটন’ এবং অর্থনৈতিক মুক্তবাজারের পথ।
রাজনীতির বাইরে তিনি সক্রিয়ভাবে লেখালেখি, বক্তৃতা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নিয়ে চলেছেন। শতবর্ষেও তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে নিজের অফিসে যান এবং বৈশ্বিক বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।
মাহাথির মুহাম্মদ শুধু মালয়েশিয়ার নন—সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়। শতবর্ষে পদার্পণ করেও তার প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক সচেতনতা অব্যাহত রয়েছে। এই ঐতিহাসিক দিনটি মালয়েশিয়ার জনগণের কাছে শুধুমাত্র একটি জন্মদিন নয়, বরং একটি প্রজন্মের কৃতজ্ঞতাপূর্ণ শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।




