বৃহস্পতিবার

,

১১ই জুন, ২০২৬

ভারতের পাল্টা শুল্কে আমেরিকার ক্ষোভ, ডাল আমদানিতে নতুন বাণিজ্য সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। মূল কারণ হলো ডাল জাতীয় শস্যের ওপর ভারতের আরোপিত ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক। আমেরিকার প্রভাবশালী দুই রিপাবলিকান সিনেটর স্টিভ ডেইনস ও কেভিন ক্রেমার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছেন, ভারতের এই ‘অন্যায্য’ শুল্ক আমেরিকার কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত ওই চিঠিতে তারা ট্রাম্পকে আহ্বান জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করতে হবে। সিনেটররা উল্লেখ করেন, মন্টানা ও উত্তর ডাকোটা আমেরিকায় ডাল ও মটরশুঁটির প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র, অন্যদিকে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ডাল ব্যবহারকারী দেশ, যারা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ২৭ শতাংশ ভোগ করে।

গত বছরের ৩০ অক্টোবর ভারত সরকার হলুদ মটরশুঁটির ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যা ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। সিনেটরদের মতে, এই শুল্কের কারণে আমেরিকার কৃষকরা ভারতীয় বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। তারা মনে করেন, অনুকূল বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত হলে আমেরিকার উৎপাদক ও ভারতীয় ভোক্তা উভয়েই লাভবান হবেন।

চিঠিতে তারা ট্রাম্পের আগের মেয়াদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ২০২০ সালের আলোচনায়ও এই বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল। তখন ট্রাম্প নিজে তাদের চিঠি মোদির কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন, যা আমেরিকার উৎপাদকদের আলোচনায় জায়গা করে দিয়েছিল।

এর আগে ২০১৯ সালে ভারতকে ‘জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স’ (জিএসপি) সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার পর দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। বর্তমানে মসুর ডাল, ছোলা ও মটরশুঁটির ওপর ভারতের কঠোর অবস্থান নতুন চুক্তিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সিনেটররা ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন, ভারতের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ডাল জাতীয় শস্যের জন্য বিশেষ শর্ত অন্তর্ভুক্ত করতে। এই দ্বিপাক্ষিক টানাপড়েন দক্ষিণ এশীয় বাজারে আমেরিকার কৃষিপণ্যের ভবিষ্যৎ এবং ভারতীয় বাজারের স্থিতিশীলতাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।