বুধবার

,

১০ই জুন, ২০২৬

গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’: পাকিস্তানসহ ৬০ দেশকে আমন্ত্রণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

গাজা পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার জন্য প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, মিসর, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মরক্কো, ব্রিটেন, জার্মানি, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা ইসলামাবাদ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিন সমস্যার একটি টেকসই সমাধান চায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের টানা দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞের পর ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই বোর্ড গঠন করা হচ্ছে।

ট্রাম্প নিজেকে বোর্ডের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা সামনে এনেছেন। ইতিমধ্যে তিনি একটি নির্বাহী প্যানেল ঘোষণা করেছেন, যেখানে রয়েছেন আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। এছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী সিগরিড কাগ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন মন্ত্রীও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রকৌশলীদের একটি টেকনোক্র্যাট কমিটি কায়রোতে প্রথম বৈঠক করেছে। তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলা এবং তিন বছরের মধ্যে অবকাঠামো পুনর্গঠন। কুশনার ও উইটকফ এই কমিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বকে আরও জোরালো করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার শর্ত হিসেবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্লুমবার্গের হাতে আসা একটি খসড়া সনদে বলা হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর হলেও যারা প্রথম বছরের মধ্যে অর্থ সহায়তা দেবে, তারা স্থায়ী সদস্যপদ পাবে। বোর্ডের ভোটাভুটি, এজেন্ডা নির্ধারণ ও সদস্যদের পদচ্যুত করার ক্ষমতা চেয়ারম্যানের হাতে থাকবে।

এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। ইউরোপের অনেক দেশও তহবিলের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে আপত্তি জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় তিনটি সংস্থা কাজ করবে—‘বোর্ড অব পিস’, ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি এবং ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’। তবে ইসরায়েল এই কাঠামোর বিরোধিতা করছে, বিশেষ করে তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে। নেতানিয়াহু তাঁর জোট শরিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকও করেছেন।

বর্তমানে আমেরিকা জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে অস্ত্রবিরতির পর হামাসের নিরস্ত্রীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার ট্রাম্পের পরিকল্পনার ওপর কতটা আস্থা রাখতে পারবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।