শুক্রবার

,

১৫ই মে, ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় আমেরিকা, পাল্টা জবাবে সেনা পাঠাচ্ছে ইইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার ওয়াশিংটনে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। বৈঠক শেষে ডেনমার্ক জানায়, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ‘জয়ের’ সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।

ট্রাম্পের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে ডেনমার্ক একা সক্ষম নয়। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো ইস্যু মিত্রদের মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত।

এদিকে ট্রাম্পের অবস্থানকে পাল্টা জবাব দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাবশালী দেশগুলো সেনা পাঠানো শুরু করেছে। ডেনমার্কের আমন্ত্রণে বৃহস্পতিবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ পৌঁছেছে জার্মানির ১৩ সদস্যের একটি নজরদারি দল। একইদিনে ফ্রান্সও সেনা মোতায়েন করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, প্রথম দল ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে, আরও সেনা পাঠানো হবে।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত অলিভিয়ে পোয়াভো দাভো জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা ফরাসি দলে প্রায় ১৫ জন পর্বত বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা আমেরিকাকে দেখাতে চাই—ন্যাটো এখানে উপস্থিত।”

জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে একজন সেনা কর্মকর্তা পাঠিয়েছে। নরওয়ে ও সুইডেনও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সেনারা যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন।

রয়্যাল ডেনিশ ডিফেন্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মার্ক জ্যাকবসেন বলেন, ইউরোপীয় সামরিক উপস্থিতি আমেরিকার প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা। এর উদ্দেশ্য হলো—আমেরিকা যদি সামরিক হস্তক্ষেপের কথা ভাবে, তাহলে দেখানো যে ইউরোপ প্রস্তুত রয়েছে গ্রিনল্যান্ড রক্ষায়।