বুধবার

,

১০ই ডিসেম্বর, ২০২৫

জাপান ভ্রমণে সতর্কতা জারি করল চীন, কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চীন–জাপান কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে তীব্র সংকটে পড়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই চীন তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

গত ৭ নভেম্বর জাপানি পার্লামেন্টে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ইঙ্গিত দেন, স্বশাসিত তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীন যদি শক্তি প্রয়োগ করে, তাহলে টোকিও সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। চীন যেহেতু তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে, তাই এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বেইজিং। তারা সতর্ক করে বলে, তাইওয়ান প্রণালীতে জাপানের যেকোনো সামরিক সম্পৃক্ততাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণ’ চালানো হবে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন শুক্রবার বেইজিং জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। এর পাশাপাশি ওসাকার চীনা কনসাল জেনারেল জুয়ে জিয়ান অন–এর সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত ‘জাপানি প্রধানমন্ত্রীর মাথা কেটে ফেলার’ হুমকিসংবলিত পোস্ট বিতর্ক ছড়ায়—যদিও পরবর্তী সময়ে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। এর জবাবে টোকিওও চীনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়।

এমন উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার রাতে জাপানে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস তাদের নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে। উইচ্যাটে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, জাপানি নেতাদের উস্কানিমূলক মন্তব্য “দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক আদান–প্রদানের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে,” এবং বর্তমান পরিস্থিতি জাপানে চীনা নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য “উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি” তৈরি করছে। তাই নিকট ভবিষ্যতে জাপান ভ্রমণ এড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

জাপানের জিজি প্রেস জানায়, এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেন, বেইজিংয়ের এ আহ্বান “কৌশলগত ও পারস্পরিকভাবে উপকারী সম্পর্ক উন্নয়নের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।” তিনি চীনা পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চীনের তিন বৃহত্তম বিমানসংস্থা—এয়ার চায়না, চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন—জাপানগামী ফ্লাইটের অগ্রিম টিকেটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

চীন আবারও তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রয়োজনে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখলের জন্য শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দেয় না।

ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গেলেও জাপানি নেতারা সাধারণত প্রকাশ্যে তাইওয়ানের প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলতেন। এমনকি জাপানের প্রধান নিরাপত্তা সহযোগী আমেরিকাও এ বিষয়ে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ বজায় রেখে এসেছে।