সোমবার

,

১৬ই মার্চ, ২০২৬

দোহায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে আজ মুসলিম নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

দোহায় হামাস–সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার মুসলিম ও আরব দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা কাতারে বৈঠকে বসছেন।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, রবিবার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে খসড়া প্রস্তুতের পর আজকের সম্মেলনে ‘কাতারের ওপর ইসরায়েলি আক্রমণ’ নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাবটি বিবেচনা হবে। তার ভাষায়, এই শীর্ষ সম্মেলন হবে “ইসরায়েলের কাপুরুষোচিত আগ্রাসনের মুখে কাতারের সঙ্গে ব্যাপক আরব–ইসলামিক সংহতির প্রতিফলন” এবং “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান”।

৫৭ সদস্যের ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ২২ সদস্যের আরব লিগের নেতারা বৈঠকে অংশ নেবেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। অন্য নেতাদের তালিকা বৈঠকের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

সম্মেলন থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া ভাষার বিবৃতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার বলছে, এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবেলায় সম্ভাব্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সম্মেলনের লক্ষ্য ইসরায়েলকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া। কিংস কলেজ লন্ডনের বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, উপসাগরজুড়ে দোহা হামলাকে সার্বভৌমত্বের নজিরবিহীন লঙ্ঘন ও কূটনীতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হয়েছে; আসন্ন বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে, “এ ধরনের আগ্রাসন স্বাভাবিক করা যাবে না।” তার মূল্যায়নে, বৈঠকের উদ্দেশ্য একটি “রেড লাইন” টেনে দেওয়া এবং ইসরায়েলের মধ্যে দায়মুক্তির ধারণা ভাঙা; ফিলিস্তিন প্রশ্নে আরও তীক্ষ্ণ ও কঠোর সম্মিলিত অবস্থানও আলোচনায় আসতে পারে।

অন্যদিকে, কাতারে অবস্থানরত হামাসের শীর্ষ নেতাদের নিরাপদ আশ্রয় প্রসঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাদের “সরিয়ে দেওয়া গেলে” গাজার সব জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধ সমাপ্তির পথে বড় বাধা দূর হবে। তার এই মন্তব্যকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে; মধ্যস্থতার অংশীদার কাতারের ভূমিকা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা–উদ্যোগের ওপর এর প্রভাব নিয়েও নজর দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকেরা।

দোহার বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল প্রত্যাশা করছে।