মঙ্গলবার

,

১৪ই এপ্রিল, ২০২৬

ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস গাজা সিটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টাওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

গাজা সিটির সুসি টাওয়ার—শহরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বহুতল—শনিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বোমাবর্ষণে ধসে পড়ে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাত্‌জ এক্সে ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমরা হামলা চালিয়ে যাচ্ছি।” আইডিএফের দাবি, ভবনটি হামাস ব্যবহার করছিল; হামাস তা অস্বীকার করেছে। হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এর আগের দিন গাজার আল-রিমাল এলাকার মুশতাহা টাওয়ারও বিস্ফোরণের পর ভেঙে পড়ে। আইডিএফ বলেছে, বেসামরিক ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা ও ‘সুনির্দিষ্ট অস্ত্র’ ব্যবহার করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল অভিযোগ করেন, উভয় টাওয়ারেই বাস্তুচ্যুত পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল এবং ইসরায়েল “জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার নীতি” নিচ্ছে। এর আগে গাজাবাসীকে দক্ষিণের তথাকথিত ‘মানবিক জোনে’ যেতে লিফলেট ছড়িয়ে সতর্ক করা হয়। স্যাটেলাইটচিত্রে গত এক মাসে গাজা সিটির বহু আবাসিক–বাণিজ্যিক এলাকা ব্যাপক ধ্বংসের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, ফিলিস্তিনি সংগঠন ইসলামিক জিহাদ দক্ষিণ ইসরায়েলের নেটিভোট শহরের দিকে দুটি রকেট ছোড়ার দায় স্বীকার করেছে। আইডিএফ জানায়, একটি আয়রন ডোম ভূপাতিত করে, আরেকটি জনবসতিহীন খোলা স্থানে পড়ে—কোনো হতাহত নেই।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে গাজায় কমপক্ষে ৬৪,৩৬৮ জন নিহত এবং ১,৬২,৩৬৭ জন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি পক্ষের হিসাব; আরও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপে আটকা আছেন বলে ধারণা। স্বাধীনভাবে এসব সংখ্যা যাচাই সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, অব্যাহত অবরোধ ও সামরিক চাপের মাঝেও বিচ্ছিন্ন রকেট হামলা প্রতিরোধ শক্তির উপস্থিতি জানান দেয়; পাল্টা আইডিএফ সাধারণত প্রতিশোধমূলক আঘাত বাড়ায়—ফলে উচ্চ–তীব্রতার সংঘর্ষ ও বেসামরিক দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।