ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে যে আহ্বান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তা সরাসরি নাকচ করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা “চীনের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের তথাকথিত অর্থনৈতিক চাপের কঠোর বিরোধিতা” করে এবং বেইজিংকে বারবার এ ইস্যুতে টেনে আনার প্রচেষ্টারও প্রতিবাদ জানায়।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্যারিসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকে ট্রাম্প ইউরোপকে চীনের ওপর চাপ বাড়াতে বলেন এবং রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধের আহ্বান জানান—যা তাঁর মতে যুদ্ধযন্ত্রে অর্থ জোগাচ্ছে।
শুক্রবার ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, “এই সঙ্কটের জন্ম দেয়নি চীন, আমরাও এটির পক্ষপাতী নই… চীনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ দেওয়ার প্রচেষ্টার আমরা কঠোরভাবে বিরোধিতা করি।”
বেইজিং ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে নিজেদের ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আসছে; যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও রাশিয়ার আগ্রাসন নিন্দা বা সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট দাবি করেনি। পশ্চিমা জোটের অভিযোগ, চীন বিভিন্নভাবে মস্কোকে সহায়তা দিচ্ছে; পাল্টা যুক্তিতে বেইজিং বলছে, ইউক্রেনে পশ্চিমা অস্ত্রসরবরাহই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণের আগে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো–বেইজিং ‘সীমাহীন অংশীদারত্ব’ ঘোষণা করে; এরপর থেকে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের ৮০ বছর পূর্তিতে বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে আয়োজিত বৃহৎ সামরিক কুচকাওয়াজে শি জিনপিংয়ের পাশে ছিলেন পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন—যা নিয়ে ইউরোপীয় কূটনীতিকসহ বহু মহল সমালোচনা করেছে।
চীন অবশ্য বলছে, “শান্তিকামী দেশ ও জনগণের সঙ্গে ইতিহাস স্মরণ” করতেই বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা চীনের কাছে দু’বার জানতে চান—রাশিয়াকে কি তারা ‘শান্তিকামী দেশ’ মনে করে? মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো উত্তর দেননি। সামগ্রিকভাবে চীনের অবস্থান—সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান ও আলোচনার পক্ষে, কিন্তু “চাপ ও জবরদস্তি”র বিরোধী—অপরিবর্তিতই থাকল, আর ট্রাম্পের সর্বশেষ আহ্বানও সে রূপরেখায় প্রত্যাখ্যাত হলো।




