রবিবার

,

১৯শে জুলাই, ২০২৬

সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিতাদেশ তুলে নিতে ভারতকে নির্দেশ দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত (পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন-পিসিএ)। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, চুক্তির মূল নথির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো স্থাপনা—যেমন পানিবিদ্যুৎ বাঁধ—সিন্ধু বা এর সঙ্গে সম্পর্কিত নদ-নদীতে নির্মাণ করা যাবে না।

চলতি বছরের ২২ এপ্রিল ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটক নিহত হয়। পাকিস্তানি কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ এ হামলার দায় স্বীকার করে। ঘটনার পরপরই ভারত তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, যার ফলে পাকিস্তানের তিন নদী—সিন্ধু, চেনাব ও ঝিলামের পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এতে দেশটির কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।

ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতে মামলা করে। গত ৮ আগস্ট আদালত রায় দেন এবং সোমবার (১১ আগস্ট) পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে রায়কে স্বাগত জানায়। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবাহিত পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানিপ্রবাহ বাধাহীন রাখতে হবে ভারতকে। যদি ভারত এসব নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে, তবে সেটি চুক্তির শর্তানুযায়ী হতে হবে।

রায়ের পর ভারত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে স্থায়ী সালিশ আদালতের ওয়েবসাইটে রায় প্রকাশের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, আদালত ভারতকে সিন্ধুর পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে এবং বাঁধ নির্মাণে চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

সিন্ধু পানি চুক্তির প্রেক্ষাপট
ভারতের উজান থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার পূর্বাঞ্চলের তিনটি নদী—ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রুর পানি ব্যবহারের অধিকার ভারত পায়। আর পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি নদী—সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাবের অধিকাংশ পানি ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয় পাকিস্তানকে।

চুক্তিতে কোনো দেশকে একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার সুযোগ নেই, বরং বিরোধ নিষ্পত্তির স্পষ্ট ধারা রয়েছে। সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানি পাকিস্তানের কৃষি, নগর ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য অত্যাবশ্যক। দেশটির বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেচব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি এই নদীগুলোর অবাধ প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল।

আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের এই রায় পাকিস্তানের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের পানিবণ্টন বিরোধ সমাধানে দিকনির্দেশক হতে পারে।