ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই প্রতিবেদক ও তিন ক্যামেরাপার্সন রয়েছেন। রবিবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান ফটকের কাছে সাংবাদিকদের জন্য স্থাপিত একটি তাঁবুতে এই হামলা হয়।
সোমবার (১১ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। নিহতরা হলেন—প্রতিবেদক আনাস আল-শরীফ, মোহাম্মদ কুরাইকেহ এবং ক্যামেরাপার্সন ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নুফাল ও মোয়ামেন আলিওয়া। ঘটনাস্থলে তাঁরা সবাই সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত তাঁবুর ভেতরে ছিলেন।
আল জাজিরা এক বিবৃতিতে এ হামলাকে ‘সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর পরিকল্পিত ও প্রকাশ্য হামলা’ এবং ‘লক্ষ্যবস্তু হত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামলার পর দাবি করে, তারা আল-শরীফকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, কারণ তিনি হামাসের একটি সশস্ত্র সেলের প্রধান ছিলেন বলে তাদের ধারণা। তবে নিহত অন্য চার সাংবাদিকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি আইডিএফ।
আল জাজিরার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ মোয়াওয়াদ বিবিসিকে বলেন, আল-শরীফ অনুমোদিত সাংবাদিক ছিলেন এবং গাজায় ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি বিশ্বকে জানাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন। হামলার সময় তাঁরা ফ্রন্টলাইনে নয়, বরং হাসপাতালের সাংবাদিক তাঁবুতেই ছিলেন। তার অভিযোগ, ইসরায়েল গাজা থেকে রিপোর্টিং করা যেকোনো চ্যানেলের কভারেজ বন্ধ করতে চাইছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করেই সংবাদ কভারেজ চলছে।
আইডিএফ দাবি করেছে, আল-শরীফ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে রকেট হামলায় জড়িত ছিলেন এবং এর প্রমাণস্বরূপ পূর্বে গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থা সিপিজে বলেছে, ইসরায়েল তাদের দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সিপিজের হিসাবে, গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।




