বুধবার

,

১০ই জুন, ২০২৬

মিটফোর্ডে ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যা: গ্রেপ্তার ৫, বহিষ্কৃত বিএনপির নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় প্রকাশ্যে একজন ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালত ইতোমধ্যে দু’জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

নিহত ব্যবসায়ীর নাম মোহাম্মদ সোহাগ ওরফে লাল চাঁদ (৩৯)। তিনি পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় বিদ্যুতের পুরনো তার কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে।

বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড) ৩ নম্বর ফটকের সামনে একদল দুর্বৃত্ত তাকে পাথর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে উঠে আসে, বিদ্যুতের তামার তারের অবৈধ বেচাকেনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঘটনার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন (৪১) ও তারেক রহমান রবিন (২২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া র‌্যাব আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঢাকার মহানগর হাকিম মো. জুয়েল রানা বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে মহিনকে হত্যা মামলায় ৫ দিনের এবং রবিনকে অস্ত্র মামলায় ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে, তাদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘটনার সঙ্গে দলীয় পরিচয়ের কেউ জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দল অপরাধীর পক্ষে নয়।”

যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পৃথক বিবৃতিতে জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহ্বান জানানো হয়েছে এবং দল কোনো দায় নেবে না।

নৃশংস এই হত্যার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। সেখানে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এছাড়া, গভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, “দুই ব্যবসায়িক গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। সোহাগকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।