২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন হলেও শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা একে “ফল বিপর্যয়” বলতে নারাজ। তারা বলছেন, এটি বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও একাডেমিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং গ্রেস নম্বর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন। পাস করেছে মাত্র ১২ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন—পাসের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এটি ১৪.৪৯ শতাংশ কম। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কম।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “এটিকে বিপর্যয় বলা যাবে না, এটি বাস্তবতা। রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষকের ঘাটতি, এবং কোনো গ্রেস মার্ক না দেওয়ার ফলে এই অবস্থা। যারা আগে খারাপ করত, তারাই এবারও খারাপ করেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীরা এখনও ট্রমা থেকে বের হতে পারেনি। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতা ও পরবর্তী অনিশ্চয়তা তাদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে।”
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হার সর্বনিম্ন বরিশাল বোর্ডে (৫৬.৩৮%) এবং সর্বোচ্চ রাজশাহী বোর্ডে (৭৭.৬৩%)। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে গণিতে—প্রায় ২৪ শতাংশ।
এ বছর ছাত্রীদের ফলাফল ছেলেদের তুলনায় ভালো। মেয়েদের জিপিএ-৫ এবং পাশের হার উভয়ই বেশি।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “এবার নম্বর প্রদানে কোনও বাড়াবাড়ি বা ছাড় দেওয়া হয়নি। যার যা প্রাপ্য, সেটিই দেওয়া হয়েছে।”
শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক বলেন, “কোভিড-পরবর্তী শিখন ঘাটতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে এ ফল আসলে বিস্ময়ের কিছু নয়।”
তবে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, শুধু পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ নয়, ফল খারাপ হওয়ার কারণ নিয়ে গবেষণা করা জরুরি। তা না হলে আগামী বছরগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।




