একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আবার রক্ষা করা হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের জন্য একটি আলাদা বিভাগ খোলা হবে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসেন।
তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছেন। আর ২০২৪ সালে যোদ্ধারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য লড়েছেন। তাই তাঁদেরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা হবে।” তিনি যোগ করেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সুবিধা-অসুবিধার দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নতুন বিভাগ তৈরি করা হবে।
সভায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন, তাঁর ভাইকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলেও বিচার হয়নি। শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম বলেন, আহত-নিহত পরিবারের সদস্যরা যেন হাসপাতালে গিয়ে সম্মান পান, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। শহীদ মীর মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্দোলনের পর অনেকেই আর্থিক সহায়তা দিতে চাইলেও তাঁরা গ্রহণ করেননি; তাঁদের অগ্রাধিকার ছিল আহতদের চিকিৎসা।
তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এক হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার আহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ছিল অধিকারহারা মানুষের গণ-আন্দোলন। একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সভায় শহীদ পরিবারের আবেগঘন বক্তব্যে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। আহতদের আর্তনাদ শুনে তারেক রহমান মঞ্চ থেকে নেমে তাঁদের পাশে গিয়ে সান্ত্বনা দেন। তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাঁদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে।




