ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইসলামের মৌলিক নীতি ও রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। ফলে ইসলামী আন্দোলন ইতোমধ্যে ঘোষিত ২৬৮ আসনে এককভাবে প্রার্থী দিয়েছে এবং অবশিষ্ট ৩২ আসনে আদর্শিকভাবে উপযুক্ত প্রার্থীকে সমর্থন জানাবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শরীয়াহ আইনে দেশ পরিচালনার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামের আমীরের বক্তব্য অস্পষ্ট ও উদ্বেগজনক। জামায়াতের আমীর ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনেই দেশ পরিচালনার কথা বলেছেন। অথচ দেশের বিদ্যমান দুর্দশার মূল কারণই বর্তমান আইন ব্যবস্থা। সেই আইন পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতি।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন নীতির রাজনীতি করে। তাই রাজনীতির মৌলিক প্রশ্নে ভিন্নমত তৈরি হলে সমঝোতায় থাকার কোনো সুযোগ থাকে না।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আমীর বিএনপির চেয়ারপার্সনের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলেছেন এবং খালেদা জিয়ার গড়া ঐক্যের পাটাতনের ওপর কাজ করার বক্তব্য দিয়েছেন। এসব বক্তব্য ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করেছে। এমন বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন-জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যাবে না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ- ইসলামের পক্ষে একটি সমঝোতার নীতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু জামায়াতের নেতৃত্বে যে সমঝোতা গড়ে উঠেছে, তা আর ইসলামের পক্ষে স্পষ্ট কোনো অবস্থান বহন করছে না এবং এর রাজনৈতিক লক্ষ্যও পরিষ্কার নয়। এসব কারণেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ওই সমঝোতা থেকে সরে এসেছে।
অন্যদিকে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনের পর জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১০ দল ২৫৩ আসনে সমঝোতা করেছে। এর মধ্যে তিনটি আসন একাধিক শরিকের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের নির্বাচনী ঐক্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে মঞ্চে ইসলামী আন্দোলনের জন্য চেয়ার রাখা হলেও দলটির কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
ইসলামী আন্দোলন বৃহস্পতিবার জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন বর্জন করে। তবুও তাদের জন্য পাঁচটি উন্মুক্তসহ ৪৭ আসন রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনী ঐক্যে না আসায় ওই আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।




