সোমবার

,

১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি: চলতি সপ্তাহেই তফসিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুত। চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন এর তফসিল ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনের সভা হয়। পরে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। রবিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি ও অন্যান্য কমিশনাররা।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াও বৈঠকে যোগ দেন।

সিইসি নাসির উদ্দিন জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, নাগরিকদের সম্পৃক্ততায় দেশে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতিকে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।

অন্যদিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত দশম কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, চলতি সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, তফসিল-পূর্ব কার্যক্রমের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রীতি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার আগে কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এবং সিইসির বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে পত্র পাঠানো হবে।

সানাউল্লাহ আরও জানান, ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। এখন ভোট শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং পোস্টাল ভোট প্রদানকারীদের তালিকা যুক্ত করা হবে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভোটকর্মী হিসেবে যুক্ত করা হবে, তবে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আপাতত রিজার্ভে রাখা হবে।

তিনি বলেন, দুটি নির্বাচন—জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—একসঙ্গে আয়োজন করতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী সামগ্রী আগের মতোই ভোটের আগের রাতে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। ভোটকক্ষে ভোটারদের সুবিধার্থে একাধিক সিক্রেট বুথ স্থাপন করা হবে এবং বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন ভোটারদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। গণভোটের প্রশ্ন সম্পর্কে ভোটারদের পরিষ্কার ধারণা দিতে প্রতিটি কেন্দ্রে বড় আকারে ছাপানো ব্যালট প্রদর্শন করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তুতি ও সরকারের সহযোগিতা মিলিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশজুড়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।