বুধবার

,

১০ই ডিসেম্বর, ২০২৫

শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণা হবে সোমবার সকাল ১১টায়, যা সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেট এলাকায় ডিএমপি, বিজিবি ও এপিবিএন সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকবে। ট্রাইব্যুনালের প্রবেশমুখে মোতায়েন থাকবে সেনা সদস্য ও র‌্যাব। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে রবিবার থেকেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার অফিস নিশ্চিত করেছে যে ট্রাইব্যুনাল-১ বেলা ১১টায় বসবে। রায়টি বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে দেশব্যাপী সরাসরি সম্প্রচার হবে এবং অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেল তা রিলে করবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়টার্স-ও সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানা গেছে। ঢাকায় বড় পর্দায়ও কয়েকটি স্থানে রায় দেখানো হবে।

মামলায় আসামি তিনজন—পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করেছে, তারা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড—চেয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে খালাসের আবেদন করেছে। রাজসাক্ষী হিসেবে দোষ স্বীকার করেছেন সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন।

রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। অন্য দুই সদস্য—বিচারক শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা, স্বজনহারা পরিবারগুলো, স্টার উইটনেস হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এবং দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২—দুটি আদালতেই বিচার চলছে।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ এনে ১০ জুলাই বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানীতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।