রবিবার

,

১৫ই মার্চ, ২০২৬

আমাদের ওপর মানসিক অত্যাচার বেশি করা হয়েছে: শহিদুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলি বাহিনীর হাতে বন্দী থাকার সময় মানসিক নির্যাতন ও আতঙ্কের মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তিনি বলেন, তাদের ওপর মানসিক অত্যাচার বেশি করা হয়েছে। জেলের ভেতরে ভয় সৃষ্টি করা হয় এবং হামাসের সমর্থক দাবি করে এক সহযাত্রীকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

ইসরাইলে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরার পর শনিবার দৃক গ্যালারিতে এক সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আটককেন্দ্রের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় এবং ইসরাইলি বাহিনী আমাদের সঙ্গের একজন প্রতিবাদকারীকে হামাস সমর্থক আখ্যা দিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়।’

তিনি আরো বলেন, ইসরাইলি বাহিনী আগে থেকেই প্রস্রাব করে রাখা একটি স্থানে আটককৃতদের পেছনে হাত বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে।

তিনি আরো জানান, ইসরাইলি বাহিনী তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছুঁড়ে ফেলে দেয় এবং প্রতিবারই যখন তিনি পাসপোর্টটি তুলে নেন, তখন তারা তাকে আক্রমণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, আটক আরো দুই প্রতিবাদীকে সেই সময় একে অপরের সঙ্গে কথা বলার কারণে মেশিনগানের নল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

শহিদুল আলম জানান, তাদের মরুভূমিতে অবস্থিত ইসরাইলের সবচেয়ে গোপন কারাগারে রাখা হয়েছিল। অন্য জাহাজ থেকে আটক আরেক সহযাত্রী তাকে বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনী তাকে ধমক দিয়ে বলেছে, তুমি হামাসের এজেন্ট, তোমাকে ভেতরে নিয়ে গুলি করা হবে।

শহিদুল আলম বলেন, তারা কারাগারে অনশন ধর্মঘট করেছেন এবং কারাগারে থাকাকালীন প্রায় সবাই কোনো খাবার খাননি। তবে, কেবল কয়েকজন শারীরিক দুর্বলতার কারণে খাবার গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আড়াই দিন ধরে মাত্র এক প্লেট খাবার দেওয়া হয়েছিল। আমাদের যে জায়গায় ঘুমাতে দেওয়া হয়েছিল, সেটি লোহার তৈরি ছিল এবং টয়লেটের অবস্থাও শোচনীয় ছিল।

তিনি আরো বলেন, রাতের বেলা ইসরাইলি বাহিনী হঠাৎ করে মেশিনগান নিয়ে আটককেন্দ্রে প্রবেশ করত। তারা উচ্চস্বরে চিৎকার করত, উঠে দাঁড়ানোর জন্য চিৎকার করত অথবা অন্য কোনো নির্দেশ দিত এবং আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করত।

এক প্রশ্নের জবাবে শহিদুল আলম বলেন, বিশ্ব নেতারা এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকায় তারা আন্তর্জাতিকভাবে একটি নেটওয়ার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছি এবং দেশে ফিরে আসার আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমরা হাজার হাজার জাহাজ নিয়ে আবার ফিলিস্তিনে যাব।