জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা নতুন বাস্তবতায় বিপুল উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের ভোট। রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’; ২৮টি পদে অধিকাংশেই তাদের জয় নিশ্চিত হচ্ছে বলে অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রাথমিক ও সমন্বিত ঘোষণা অনুযায়ী ভাইস–প্রেসিডেন্ট (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস)—দুই শীর্ষ পদেই ইসলামি ছাত্র শিবির–সমর্থিত প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয় পেতে চলেছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। এ সময় ক্যাম্পাস ও শাহবাগ–টিএসসি এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়, যার কয়েকটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে বলে জানা গেছে।
রাত সোয়া ৪টার দিকে সর্বশেষ ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) সর্বমোট ১২ হাজার ১০৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন চার হাজার ৯১৫ ভোট।
ফলাফল ঘোষণা করা হলগুলো হলো- শামসুন্নাহার হল, মুহসীন হল, এফ রহমান হল, রোকেয়া হল, এসএম হল, জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, শহীদুল্লাহ হল, কার্জন হল, ফজলুল হক মুসলিম হল, অমর একুশে হল ও সুফিয়া কামাল হল।
নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত হিসাব মিলিয়ে মোট ভোটারদের প্রায় ৭৮.৩৩% কেন্দ্রে উপস্থিত হন—ভোটশেষে এই অংশগ্রহণ ও সার্বিক আয়োজনকে “উৎসবমুখর” বলেই বর্ণনা করেছে গণমাধ্যমগুলো।
ফল–রাতে হলওয়ারি ঘোষণায় শিবির–সমর্থিত প্যানেলের বড় লিড স্পষ্ট হয়ে ওঠে; জহুরুল হক, শহীদুল্লাহ, সুফিয়া কামাল, ফজলুল হক মুসলিম, শামসুন নাহারসহ একাধিক হলে তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে বা জয় পান—এই ধারাবাহিকতা থেকেই ভিপি–জিএস পদে “বড় জয়ের” চিত্র উঠে আসে। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের কয়েকজন প্রার্থী কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণাও দেন, যা রাতেই গণমাধ্যমে আসে।
ফল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে। ভোট–পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বুধবারের (ঘোষণার পরের দিন) সব ক্লাস–পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তও জানানো হয়।
ভোটের দিনে দায়িত্ব পালনের সময় এক টেলিভিশন সাংবাদিকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নির্বাচনি পক্ষগুলো—দিনভর ঘটনাপ্রবাহ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার হালনাগাদও স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হয়।
রাতের ফল ঘোষণার ধারা–বিবরণী অনুযায়ী ভিপি–জিএস–সহ একাধিক পদে শিবির–সমর্থিত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট হওয়ায় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পালা শুরু হলো—তবে পরাজিতদের অভিযোগ ও পুনর্গণনার দাবিগুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানই এখন নজরকাড়া পরবর্তী ধাপ।




