অ–অভিবাসী ভিসা (নন-ইমিগ্র্যান্ট) সাক্ষাৎকারের জন্য আবেদন এখন থেকে আবেদনকারীর নিজ দেশ বা স্থায়ী বসতির আমেরিকার দূতাবাস/কনস্যুলেটেই করতে হবে— আমেরিকা পররাষ্ট্র দপ্তরের নতুন নিয়মে বিশ্বজুড়ে এই বিধান কার্যকর হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সারি এড়াতে অন্য দেশে গিয়ে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার পথ বন্ধ হলো।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভ্রমণ (বি১/বি২)–সহ সব অ–অভিবাসী শ্রেণির আবেদনকারীদের নিজ দেশে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়াই হবে প্রাথমিক নীতি। ব্যতিক্রম কেবল সেসব দেশের নাগরিকেরা, যেখানে নিয়মিত ভিসা সেবা নেই (যেমন আফগানিস্তান, কিউবা, ইরান); তারা নির্দিষ্ট মনোনীত দূতাবাসে আবেদন করতে পারবেন।
নতুন বিধান ভারতীয় আবেদনকারীদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন ভারত থেকে অনেকে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জার্মানি ইত্যাদি দেশে গিয়ে বি১/বি২ সাক্ষাৎকার দিতেন। কোভিড-পরবর্তী সময়ে ভারতে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রেক্ষাপটেই এ ধারা জনপ্রিয় হয়েছিল।
এর পাশাপাশি ২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘ড্রপবক্স’ সুবিধা—যেখানে সাক্ষাৎকার ছাড়াই কাগজপত্র জমা দেওয়া যেত— বেশির ভাগ শ্রেণিতে সীমিত করা হয়েছে। এখন এইচ, এল, এফ, এম, জে, ই এবং ও–সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের সাধারণ নিয়মে দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে সাক্ষাৎকার দিতে হবে। এমনকি ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু ও ৭৯ বছরের বেশি বয়সীদের জন্যও সরাসরি উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা অনেক ক্ষেত্রে চালু হয়েছে।
পটভূমিতে জানা যায়, করোনাকালে ভারতে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে দীর্ঘ সময় (কখনো বছরখানেকেরও বেশি) অপেক্ষা করতে হতো। সে সময়ই বহু আবেদনকারী তৃতীয় দেশে গিয়ে দ্রুত তারিখ নিতেন। নতুন নীতির ফলে ওই পথ বন্ধ হয়ে নিজ দেশে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাই হবে একমাত্র প্রধান চ্যানেল।
কনস্যুলার বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মটি একদিকে বিশ্বব্যাপী অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রবাহকে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে জনপ্রিয় মিশনগুলোতে চাহিদা সামলাতে অতিরিক্ত স্লট ও জনবল না বাড়ালে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে। আবেদনকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রশ্নোত্তর ভালোভাবে পড়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সাক্ষাৎকার–তারিখ আগেভাগেই নির্ধারণ করতে।




