সোমবার

,

১৬ই মার্চ, ২০২৬

ডাকসু–হল সংসদ নির্বাচন: প্রচারণা শেষ, ৯ সেপ্টেম্বর ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা রবিবার রাত ১০টা থেকে বন্ধ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোট শুরুর ৩৪ ঘণ্টা আগে থেকে মিছিল–সমাবেশ, শোডাউন ও প্রচারসামগ্রী বিতরণ নিষিদ্ধ থাকবে। ভোটগ্রহণ হবে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

চলতি নির্বাচনে ডাকসুর ২৮টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪৭১ জন—এর মধ্যে ভিপির জন্য ১৯, জিএস ৩০, এজিএস ২৫, কোষাধ্যক্ষ ২৭, দফতর সম্পাদক ২৬, সাহিত্য সম্পাদক ৩৪, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ৩৯, ক্রীড়া সম্পাদক ৪০, সমাজসেবা ৪২ ও তথ্য–গবেষণা সম্পাদক পদে ৩৩ জন। প্রকাশিত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী সদস্য (প্রতিনিধি) পদে আছেন ১৫৬ জন। ‍ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজারের বেশি।

রবিবার প্রচারণার শেষ দিনে অধিকাংশ প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বা ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন, বিভিন্ন হলের চত্বর ও পথঘাটে প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ করে ভোট প্রার্থনা করেন।

ভোট সংক্রান্ত যাবতীয় সূচি ও নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পোর্টালে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার, বাহিরাগতদের হলে অবস্থান ও প্রভাব বিস্তার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যতীত কোনো পোস্টার–ব্যানারও ব্যবহার করা যাবে না।

নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ডিএমপি ও ক্যাম্পাস নিরাপত্তা–বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে প্রস্তুত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও হল–এলাকা সিসিটিভি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

এর আগে আইনি জটিলতা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়েই ভোট আয়োজনের পথে সবুজ সংকেত দেয় আদালত; একই সঙ্গে ভোটের সময়সূচি অপরিবর্তিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার আশঙ্কা প্রকাশ করে ১০ দফা সতর্কতামূলক দাবি উত্থাপন করেছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’। রবিবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে তারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব স্পষ্ট করা, নারী ভোটার যাচাইয়ে নারী শিক্ষক অন্তর্ভুক্তি, পোলিং অফিসার নিয়োগে স্বচ্ছতা, ভোটের সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাড়ানো, পোলিং এজেন্ট–গণমাধ্যমের জন্য নির্দেশিকা প্রকাশ, বুথের বাইরে লাইনে শিক্ষক–অফিসার নিয়োগ এবং গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা—ইত্যাদি দাবি তোলে। কোনো অনিয়ম দৃশ্যমান হলে ইসি ও প্রশাসনের জবাবদিহিরও দাবি জানানো হয়।

বিকেলে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ব্রিফিংয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। নকল পরিচয়পত্রে ভোট দেওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে পরিচয় নিশ্চিতকরণের কঠোর ব্যবস্থা ও ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক পুলিশে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসমর্থিত প্যানেল আট দফা শপথ নিয়ে নিপীড়নমুক্ত, শিষ্টাচারপূর্ণ ক্যাম্পাস গড়ার অঙ্গীকার করেছে; সোমবার ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা অভিযানও চালাবে তারা। ছাত্র ইউনিয়নসমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী মেঘমল্লার বসু ৯ সেপ্টেম্বর ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক উপস্থিতির আহ্বান জানিয়েছেন।

২০১৯ সালের পর ছয় বছর বিরতির পর এই প্রথম ডাকসু–হল সংসদের ভোট হতে যাচ্ছে। ফল ঘোষণার আগে হলে হলে গণনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সামগ্রিক ফল জানাবেন বলে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও এর কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম ভোট হয় ১৯২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে। সেই থেকে গত ১০০ বছরে ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র ৩৭ বার। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৫৪ বছরে নির্বাচন হয়েছে সবচেয়ে কম, মাত্র সাত বার।