বাংলাদেশের ইতিহাসে আগামী নির্বাচন সবচেয়ে কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (১১ আগস্ট) বিকেলে নওগাঁ কনভেনশন সেন্টারে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর নেতাকর্মীদের বলেছিলাম—অনেকে ভাবছেন প্রতিপক্ষ নেই, নির্বাচন সহজ হবে। কিন্তু আমি তখনই বলেছিলাম, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন হবে।”
তিনি দাবি করেন, এক বছর আগে তিনি অদৃশ্য শক্তির ষড়যন্ত্রের কথা বলেছিলেন, যা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে। তবে তিনি আশাবাদী, বিএনপির সব সদস্য ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইনশাআল্লাহ সফল হবে।
তিনি বলেন, “দেশজুড়ে এখন সংস্কার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিএনপি আড়াই বছর আগে স্বৈরাচারের সময় মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় ৩১ দফা প্রস্তাব করেছিল, যেখানে রাষ্ট্রকে জনগণের রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে প্রয়োজনীয় সব দিকনির্দেশনা রয়েছে। আজকের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে এসবের অধিকাংশ মিল রয়েছে।”
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, কিছু দল এখন সংস্কারের দাবি তুলে বলছে, শর্ত পূরণ না হলে নির্বাচন করবে না। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে ছোট করতে চাই না, সবার মতামতকে সম্মান জানাতে চাই। তবে মনে রাখতে হবে, শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা বহু আগে থেকেই এই সংস্কারের দাবি তুলেছে।”
তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়—এমন কোনো কাজ করা যাবে না। আগামীর নির্বাচন সহজ হবে না, কারণ একটি অদৃশ্য শক্তি ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে চায়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং দেশের ২০ কোটি মানুষ যেমন চায়, সেভাবেই দেশ পরিচালিত হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।




