বৃহস্পতিবার

,

১১ই জুন, ২০২৬

তিন মাসে এক টেরাবাইট বৃদ্ধি, ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

তিন মাসেই এক টেরাবাইট ব্যান্ডউইডথ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন এক ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। ১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ পরিবহনে প্রতিষ্ঠানটি ছুঁয়ে ফেলেছে চার টেরাবাইট পার সেকেন্ডের গৌরবময় মাইলফলক—যা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল বিএসসিপিএলসি তিন টেরাবাইট ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের মাইলফলকে পৌঁছায়। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এক টেরাবাইট সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের সক্ষমতা এবং পরিচালন দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগের আট মাসে প্রতিষ্ঠানটির ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার মাত্র ১.১০ টেরাবাইট বৃদ্ধি পেয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে তাদের ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ ২.২ টেরাবাইটের বেশি বেড়েছে। শুধু গত এক বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০৫ শতাংশেরও বেশি। এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নীতিগত সহায়তা, মূল্যছাড় নীতিমালা, এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় গৃহীত কৌশলগত পদক্ষেপ।

জুলাইয়ে দেশে বাণিজ্যিকভাবে কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের চালু হওয়ার পর বিএসসিপিএলসি তাদের ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি দেশের ইন্টারনেট ট্রাফিকে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিটিআরসি সংশোধিত লাইসেন্সিং গাইডলাইনের আওতায় আইআইজি অপারেটরদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—তাদের ব্যবহৃত ব্যান্ডউইডথের অন্তত ৫০ শতাংশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এর ফলে ভারত-নির্ভরতা কিছুটা কমে এসেছে এবং সাবমেরিন ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এছাড়া, বিএসসিপিএলসি বর্ধিত ব্যান্ডউইডথ ব্যবহারকারীদের জন্য অতিরিক্ত মূল্যছাড় বাস্তবায়ন করেছে। ডেটা সেন্টার, ক্লাউড ও হাইপার স্কেলারদের জন্য পৃথক ইন্টারনেট প্যাকেজও চালু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকার বর্তমানে সি-মি-উই ৬ প্রকল্পে সংশোধিত রুটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সম্প্রতি একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসের সক্ষমতায় অতিরিক্ত ১৭ টেরাবাইট ব্যান্ডউইডথ যুক্ত হবে।

এই অগ্রগতি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।